বিশেষ প্রতিবেদন

নৌকা-জাল নিয়েও বেকার দক্ষিণাঞ্চলের জেলেরা

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। সাত নদীর বৃত্তে আবদ্ধ জেলাটি। তবে এ জেলার ৭টি নদীর মধ্যে চারটি এখন মৃতপ্রায়। নদীগুলোর নাব্যতা হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই হারিয়ে গেছে নদীর উপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকার উৎস। নদী না থাকায় তীরবর্তী সংযোগ খালগুলো দখল হয়ে গেছে। জলাধারগুলোও দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। জেলায় সাত নদীর মধ্যে রয়েছে মহাকবি মাইকেল মধুসুধন দত্তের কপোতাক্ষ নদ, বেতনা, খোলপেটুয়া, ইছামতি, কালিঞ্চি, মরিচ্চাপ আর যমুনা। এর মধ্যে খোলপেটুয়া, ইছামতি আর কালিঞ্চি নদীর নাব্যতা থাকলেও বাকিগুলো মৃতপ্রায়। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে নদী খনন করলেও তার কোনো সুবিধায় তীরবর্তী মানুষরা পায়নি। বিশিষ্ট জনদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে বেড়িবাঁধ, ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ, নদী দখল করে ঘের, নেটপাটা দিয়ে মাছ ধরা, নদীর তীর দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ, নদী শাসন আর দখল দৌরাত্মের প্রভাবই এসব নদীগুলোর নাব্যতা হারানোর জন্য অনেকাংশেই দায়ী। তাছাড়া যখন নদী দখলের মহাৎসব চলছে তখন প্রশাসনিকভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় নদীগুলো এখন স্মৃতির পাতায়। নৌকার কারিগর থাকলেও নদী না থাকায় চাহিদা নেই নৌকার। নদী না থাকায় নদীর উপর নির্ভরশীল মানুষগুলো বেছে নিয়েছে ভিন্ন পথ। জেলার পাটকেলঘাটা এলাকার নৌকা ব্যবসায়ী ও কারিগর আনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে জানান, নদী না থাকার কারণে এখন আর নৌকার চাহিদা নেই। এখন যারা নৌকা ক্রয় করেন তারা এসব নৌকা তাদের ঘেরের কাজে ব্যবহার করেন। সর্বনিম্ন ৩-৪ হাজার থেকে শুরু করে নৌকার আকার অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হয়। নদী না থাকার কারণে এখন আমাদের ব্যবসায় লাভ হয় না। তারপরও ভালো লাগার কারণে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে পারিনি। তালার মালো পাড়ার জেলে সম্প্রদায়ের রাম প্রসাদ বলেন, নদী না থাকায় আমরা খুব কষ্টে আছি। সরকার শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে নদী খনন করলো কিন্তু তার কোনো সুবিধাই আমরা পেলাম না। আমাদের মধ্যে অনেকেই এখনও মাছ ধরার নেশা ভুলতে পারেনি। তাই মৌসুম হলেই দলবদ্ধ হয়ে সাগরের পথে পাড়ি জমায়।তিনি আরও জানান, গত ৬ মাস আগে আমাদের পাড়ার একটি দল সাগরে গেলে তাদের মধ্যে থেকে দিলীপ হালদারকে জিম্মি করে দস্যুরা। পরে দেড় লাখ টাকা দিয়ে তাকে মুক্ত করতে হয়। এভাবেই চলছে আমাদের জীবন।এসএস/পিআর