শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) প্রার্থী মো. ইয়াকুব আলীকে ভোট না দেয়ার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের অন্তত ৩০টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এর ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন দাসপাড়ার শতাধিক সংখ্যালঘু পরিবার।সেদিনের সেই হামলার বর্ণনা দিয়ে দাসপাড়ার বাসিন্দা রাকেশ দাস জাগো নিউজকে বলেন, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ২ নং ওয়ার্ডের ‘মোরগ’ প্রতীকের সদস্য (মেম্বার) প্রার্থী ইয়াকুব আলীকে ভোট না দেয়ার অভিযোগে তার অর্ধশত সমর্থক দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে দাসপাড়ায় হঠাৎ হামলা চালায়। এ সময় তারা অন্তত ৩০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এছাড়া হামলাকারীরা বেশ কয়েকজনকে মারধরও করেন এবং আড়িয়ল গ্রামে কোনো জেলেকে থাকতে দেবে না বলেও হুমকি দেন।হামলার শিকার হওয়া দাসপাড়ার আরেক বাসিন্দা রীতা রাণী দাস জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচনে সদস্য পদে ‘ফুটবল’ প্রতীকের প্রার্থী সেলিম মিয়া বিজয়ী হওয়ার খবর পাওয়ার পর পরই ইয়াকুব আলীর সমর্থকরা সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা দা-লাঠি দিয়ে বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে। তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা তার ঘর থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা, স্বর্ণের এক জোড়া কানের দুল ও কাপড় লুট করে নিয়ে গেছে এবং যাওয়ার সময় সব জেলে পরিবারকে ভারতের পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।এদিকে, হামলার ঘটনায় দুইদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে সোমবার বিকেল ৫টায় পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকতারুন্নেছা শিউলি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, যেহেতু হামলার ঘটনা ঘটেছে তাই সংখ্যালঘুদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক কাজ করছে। তবে তাদের এই আতঙ্ক দূর করার দায়িত্ব পুলিশের। ইতোমধ্যেই পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযানে নেমেছে। দ্রুত সকল আসামিকে গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় দাসপাড়ায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।আজিজুল আলম সঞ্চয়/এসএস/পিআর