দেশজুড়ে

বগুড়ার নবাববাড়ি সংরক্ষণে গেজেট প্রকাশ

অবশেষে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ি সংরক্ষণের বিষয়টি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১২ মে এই গেজেটটি প্রকাশ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এটি বগুড়া জেলা প্রশাসক ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে বগুড়ার জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে জানান, তিনি অফিসে নেই। গেজেটের ব্যাপারে কোনো তথ্যও তার জানা নেই। অন্যদিকে, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, সোমবার দুপুরে তিনি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছেন। এখন নিয়ম অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সূত্র জানায়, নিয়ম অনুসারে তারা এখন ঐতিহাসিক এই স্থানটি পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের জন্য নীল রঙেও নোটিশ টানিয়ে দিবেন। একই সঙ্গে এই ভবনটির যাতে কোনো পরিবর্তন পরিবর্ধন না হয় সেদিকও খেয়াল রাখবেন।এর আগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ছানিয়া আক্তার ১৯ এপ্রিল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানান, ভবনটি পুরাকীর্তি হিসেবে সরকারি ভাবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি জারি করে তা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রাণালয়ে পাঠিনো হয়েছে। সরকারি এই নির্দেশনা গত ৩ মে বগুড়া জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিনের হাতে এসে পড়ে। এরপর নিয়ম অনুসারে এটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার কথা। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে কোনো তৎপরতা দেখাননি। যার কারণে উল্টো তৎপর হয়েছে ঐতিহাসিক এই বাড়ির ক্রেতারা। সম্প্রতি তারা রাতের বেলা এই বাড়ির নামফলক সরিয়ে দিয়ে নিজেদের নামের সাইনবোর্ড ঝুঁলিয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর বগুড়া স্মৃতিবিজড়িত নওয়াব প্যালেস ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি আইনে (৭৬ সালে সংশোধিত) সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ খবর জানার পর বগুড়ার প্রভাবশালী তিন ব্যবসায়ী রোববার রাতে মোহাম্মদ আলী প্যালেস মিউজিয়ামের নামফলক সরিয়ে সেখানে নিজেদের নামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন।নওয়াব প্যালেসের ফটকসহ ভেতরের একাধিক স্থানে যে তিন ব্যবসায়ীর নামের সাইনবোর্ড শোভা পাচ্ছে। তারা হলেন, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের ছেলে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান, সহ-সভাপতি ও হাসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুল হাসান এবং সাবেক সহ-সভাপতি ও শাহ সুলতান গ্রুপের এমডি আবদুল গফুর। সরকারিভাবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হওয়ায় আগে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের ছেলে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান জানান, তারা বৈধ ক্রেতা। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে আইনের সহযোগিতা নিবেন।উল্লেখ্য, নওয়াব প্যালেস ওয়াকফ সম্পত্তি হলেও এটিকে ব্যক্তি মালিকানা দেখিয়ে নওয়াব পরিবারের দুই উত্তরসূরি সৈয়দ হামদে আলী ও সৈয়দ হাম্মাদ আলীর কাছ থেকে গত ১৫ এপ্রিল ছুটির দিনে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় বসে দলিল সম্পাদন করে নেন বগুড়ার ওই তিন ব্যবসায়ী। এক একর ৫৫ শতকের মহামূল্যবান এই প্রাচীন স্থাপনাকে সাধারণ বসতবাড়ি উল্লেখ করে দলিলে মাত্র ২৭ কোটি টাকা মূল্য দেখানো হয়। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে বগুড়ার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য রক্ষা কমিটি আন্দোলন শুরু করে। স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে এর গুরুত্ব তুলে ধরে চিঠি পাঠায়। এরপর ১৯ এপ্রিল এটি সংরক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।এআরএ/এবিএস