সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার প্রভাবশালীদের দখলে থাকা ১৩৬টি খাল উদ্ধারে স্ব-উদ্যোগে অভিযানে নেমেছেন শ্যামনগরের সহকারী ভূমি কমিশনার। এ লক্ষ্যে তিনি খালগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থির চিত্র ও ভিডিও চিত্র ধারণ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে শ্যামনগর সদর, নূরনগর ও ভুরুলিয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ খালের ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণ সম্পন্নও করা হয়েছে।বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, খালগুলো দখলমুক্ত করা গেলে একদিকে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় হবে অন্যদিকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পাবে উপজেলাবাসী।উপজেলায় ১৩৬টি খালের মধ্যে ২০ একরের ঊর্ধ্বে রয়েছে ১১টি খাল। অবশিষ্ট ১২৫টি খাল রয়েছে ২০ একরের নিচে। এগুলো সরকারের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম উৎস। কিন্তু ইজারা বিজ্ঞপ্তি দিলে মাত্র ২০/২৫টি খালের ইজারা গ্রহণের আবেদন পাওয়া যায়। স্থানীয় প্রভাবশালীরা নেট, পাটা দিয়ে অবৈধভাবে দখল করে থাকায় এখান থেকে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। আর দখলদারিত্বের প্রভাবে পানি নিষ্কাশন না হতে পেরে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার। এ বিষয়ে শ্যামনগরের সহকারী ভূমি কমিশনার আহসান উল্লাহ শরিফী জাগো নিউজকে বলেন, স্ব-উদ্যোগে দখল হয়ে যাওয়া এই খালগুলো দখলমুক্ত করার চেষ্টা করছি। এ উপজেলায় আমার চাকরির সময়কালে হয়তো সব খাল দখলমুক্ত করা সম্ভব হবে না। তবে আমি শুরু করে যাচ্ছি পরে যিনি আমার স্থানে আসবেন তিনিও এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবেন। এর ফলে একদিকে শ্যামনগর উপজেলা জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পাবে অন্যদিকে সরকারি জলমহালগুলো ইজারা দিয়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হবে। জেলে সম্প্রদায়ের মানুষেরও জীবিকার উৎসের সৃষ্টি হবে।দখল উচ্ছেদকালে প্রভাবশালীদের দ্বারা বাধার সম্মূখীন হচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সৌভাগ্যবান এখনও পর্যন্ত কেউ আমার সামনে এসে বাধা দিতে সাহস পায়নি। এ সময় তিনি প্রত্যেক উপজেলার ভূমি কর্মকর্তাদের দখল হয়ে যাওয়া খালগুলো মুক্ত করার আহব্বান জানান।আকরামুল ইসলাম/এফএ/পিআর