রাবি অধ্যাপককে নিরাপদ মনে করছেন না শিক্ষার্থীরা


প্রকাশিত: ১২:০৩ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদকে নিরাপদ মনে করছেন না বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাই একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম থেকে তানভীর আহমদকে বিরত রাখার জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তার স্বামী ও বিভাগের অধ্যাপক তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং মাধ্যমগুলোতেও এই শিক্ষকের চরিত্র নিয়ে নানা ধরনের ঘটনা ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা বিভাগের সভাপতি বরাবর এ আবেদন জানান বলে জানা গেছে।

রোববার বিভাগে আয়োজিত আকতার জাহান স্মরণে শোকসভা শেষে বিভাগের সভাপতি প্রদীপ কুমার পান্ডের কাছে এ আবেদনপত্র জমা দেন শিক্ষার্থীরা।

বিভাগের ১৮১ জন শিক্ষার্থী এই আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন। ঈদের ছুটির পর বিভাগের অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে না আসলেও তারা ফোনে এই আবেদনপত্রের সঙ্গে সম্মতি প্রকাশ করেছেন বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা আবেদনপত্রে অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি আমাদের বিভাগের মা তুল্য শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে এসেছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের শিক্ষক আকতার জাহানকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের কথা।

এ নির্যাতনের সঙ্গে তার সাবেক স্বামী ও বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদের জড়িত থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে। এমনকি আকতার জাহানের জানাজা সম্পন্ন হওয়ার আগেই তানভীর আহমদ অত্যন্ত নগ্নভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ম্যামের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করেন, যা আমাদের অত্যন্ত মর্মাহত ও ব্যথিত করেছে।

সুইসাইড নোটে আকতার জাহান উল্লেখ করে গেছেন, তার সন্তানও তানভীর আহমদের কাছে নিরাপদ নয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও এই শিক্ষকের চরিত্র নিয়ে নানা ধরনের ঘটনা উঠেছে। এমতাবস্থায় বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা অত্যন্ত আতঙ্কিত, ভীতসন্ত্রস্ত ও উদ্বিগ্ন এবং তানভীর আহমদের কাছে কোনোভাবেই নিজেদের নিরাপদ বোধ করছি না।

জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পান্ডে জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীরা আবেদনপত্র দিয়েছে। বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার আকতার জাহানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তানভীর আহমদের সঙ্গে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন বিভাগের ১৬ জন শিক্ষক। এর পরিপ্রেক্ষিতে তানভীর আহমদ বিভাগের সব একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক ভবন জুবেরি ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে আকতার জাহানের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে ১০ সেপ্টেম্বর শনিবার সুরতহাল ও ময়নাতন্ত শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তার এনামুল হক বলেছিলেন, প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়াজনিত কারণে আকতার জাহানের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

ওই দিন শনিবারই আকতার জাহানের ছোটো ভাই কামরুল হাসান রতন অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে নগরীর মতিহার থানায় মামলা করেন।

এতে তিনি বলেন, সুইসাইড নোট থেকে স্পস্ট প্রতীয়মান হয় যে, তিনি (আকতার জাহান) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারও দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী/প্ররোচনাকারীদের খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে মর্জি হয়।

রাশেদ রিন্টু/ এমএএস/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]