হাওরে অম্লীয় পদার্থের অস্তিত্ব পায়নি ঢাবির গবেষক দল


প্রকাশিত: ০৩:৩২ পিএম, ০১ জুন ২০১৭

সুনামগঞ্জের হাওরের পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস ও অম্লীয় পদার্থের অস্তিত্ব পায়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল। হাওরের পানি, মাটি, বিভিন্ন মাছ ও ধানের শীষসহ ধান গাছের নমুনার ওপর গবেষণা করে এ তথ্য দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গবেষকরা। বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

২৪ এপ্রিল হাওর এলাকা পরিদর্শন করে এসব নমুনা সংগ্রহ করে গবেষকরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে নমুনা সমূহের বিশ্লেষণ করা হয়। এতে পানির পিএইচ, (দ্রবীভূত অক্সিজেন), আগাছানাশক সনাক্ত করা হয়। কেমিক্যাল টেস্ট (এফটিআইআর,এইচপিএলসি) এবং এলসি-এমএস ব্যবহার করে পানি, কুচুরীপানা ও ধানের শীষে ২ দশমিক ৪ ডি- ডায়োলামাইনে এর অস্তিত্ব নিরুপণ করা হয়।

গবেষকরা বলেন, পানির পিএইচ ৭ দশমিক ৫০-৭ দশমিক ৭৩ পাওয়া গেছে। যদি পানিতে কোন ধরনের অম্লীয় পদার্থ (এসও ২) দ্রবীভূত হলে পানির পিএইচ স্বভাবতই আরও কম হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এখানে তা হয়নি।

অন্যদিকে অ্যামোনিয়া গ্যাস দ্রবীভূত হলে পানির পিএইচ আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করছেন গবেষকরা। তারা বলেন, অ্যামোনিয়ার তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ থাকে এবং এর প্রভাবে গাছপালার পাতা বিবর্ণ হয়ে পড়ে। আমরা গাছের পাতা ও লতাগুলো বিবর্ণ হওয়া দেখিনি। তবে ওখানকার বাতাসে সামান্য ঝাঁঝালো গন্ধ পাওয়া গেছে বলে জানান তারা।

গবেষকরা মনে করেন, ২ দশমিক ৪- ডি-ডায়োলোমাইনো এর বাণিজ্যিক নাম ২ দশমিক ৪-ডি- উইডার। ২ দশমিক ৪-ডি-উইডার আগাছানাশক পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যে বিষাক্ততা সৃষ্টি করেছে এর ফলেই মাছ ও পশুপাখির মড়ক দেখা দেয়।

এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে নাইট্রোজেন ঘটিত সার বিশেষ করে ইউরিয়া প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হয়েছে। হঠাৎ বাঁধ ভেঙে উজানের ঢলের পানিতে কাঁচা পাকা ধান ডুবে যাওয়ার ফলে ধান পচে মিথেন নির্গত হয়েছে।

গবেষকরা কোনো তেজস্ক্রিয়তার প্রমাণও পায়নি। তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব ঘটে। যদি তেজস্ক্রিয়তা হত তবে ঐ অঞ্চলের মানুষজনও আক্রান্ত হত।

গবেষকরা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় তারা একটি রাসায়নিক যৌগের গন্ধ পায়। যদিও সেটি কোনো যৌগ তা বুঝা যাচ্ছিল না। সে গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে স্থানীয় জনগণ ও কৃষকরা জানান, জমিতে আগাছা নিরোধের জন্য আগাছানাশক ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণা দলে ছিলেন, ফেডারেশন অব এশিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটিস এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক জসীম উদ্দিন আহমদ, রসায়ন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. নীলুফার নাহার, ড. মোবারক আহমদ খান। এছাড়া বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এতে সহায়তা করে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আফতাব আলী খানসহ গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এমআরএম/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :