ববিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭


প্রকাশিত: ১০:০৪ এএম, ০৩ জুন ২০১৭
ফাইল ছবি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষে সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শনিবার তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গুরুতর আহত তিন শিক্ষার্থীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

এরা হলেন- রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আল-আমিন, জীববিজ্ঞান বিভাগের এনামুল এবং মার্কেটিং বিভাগের সাকিব।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু হল ও ক্যাম্পাসের বাইরে এ হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) হল প্রশাসন জরুরি সভা করে। সভা থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি না থাকলেও ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পরিচয়ে একাধিক গ্রুপ সক্রিয়। ইমরান হোসেন নাইমের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ শুক্রবার ক্যাম্পাস সংলগ্ন হাবিব হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শাওন ও রুবেলের নেতৃত্বে অপর দুটি গ্রুপ একজোট হয়ে এর বিরোধিতা করে। তাদের অভিযোগ গত সপ্তাহে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনায় ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও জড়িত ছিল। ওই ইফতার অনুষ্ঠান ভণ্ডুল করার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যার আগেই শাওন ও রুবেল তাদের সহযোগীদের নিয়ে ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নেয়। ইমরান হোসেন নাইমের সমর্থকরা পাল্টা অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ফাঁড়ি পুলিশ ও শিক্ষকরা এসে দুই পক্ষকে শান্ত করে ক্যাম্পাসের ভেতরে পাঠিয়ে দেন। এর জের ধরে বঙ্গবন্ধু হলে রাত ১০টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

ছাত্রলীগের একাংশের নেতৃত্ব দেয়া ইমরান হোসেন নাইম জাগো নিউজকে বলেন, ইফতার অনুষ্ঠান নিয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে বিরোধ বাধে। প্রতিপক্ষ গ্রুপ হামলা চালিয়ে তার সমর্থককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে।

অপর গ্রুপের সিনিয়র নেতা সিফাত জাগো নিউজকে বলেন, ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজক গ্রুপটি মূলত ক্যাম্পাসের মধ্যে মাদক ব্যবসায় জড়িত। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের আঁতাত রয়েছে। কিছুদিন আগে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়েছিল। ছাত্রদের ওপর হামলাকারী স্থানীয়দের সঙ্গে আঁতাত করে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী একটি গ্রুপ। সাধারণ ছাত্ররা তাদের প্রতিহত করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. শামিম জানান, ক্যাম্পাসের বাইরে সংঘর্ষ বাধলে পুলিশ ও শিক্ষকরা তাদের শান্ত করে ক্যাম্পাসের ভেতরে পাঠিয়ে দেন। পরে হলের মধ্যে সংঘর্ষ হলেও পুলিশকে ভেতরে যেতে অনুমতি দেয়া হয়নি।

বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এমএ কাইয়ুম জাগো নিউজকে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আজ বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট এবং আবাসিক শিক্ষকরা প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী সভা করেছে। সভায় ওই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সাইফ আমীন/আরএআর/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]