চবিতে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে ছাত্রলীগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৩:১৫ এএম, ০৮ নভেম্বর ২০১৭

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষক আমীর উদ্দিনকে অপসারণ ও লাঞ্ছনার বিষয়ে দুই অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে শাখা ছাত্রলীগ। এরমধ্যে নিয়োগ অবৈধ জানিয়ে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্বে আছেন স্থগিত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু। অন্যদিকে অস্ত্র ঠেকিয়ে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে সক্রিয় স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক এইচএমএম ফজলে রাব্বী সুজন।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি এমন অবস্থানে শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীদের শাস্তির দাবিতে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনে যাবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এইচএম ফজলে রাব্বী সুজন।

মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রলীগের একাংশের প্রশাসনিক ভবনে হামলা ভাঙচুরের প্রতিবাদে মিছিল শেষে এক সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিল করে আইনি ব্যবস্থা না নিলে এবং প্রশাসনিক ভবনে হামলা ভাঙচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা না করলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন যেতে বাধ্য হব।

এসময় শিক্ষক আমীর উদ্দিনকে লাঞ্ছনার ৪৮ ঘণ্টা পেরোলেও প্রশাসন ও শিক্ষক সমিতি নির্বিকার থাকার সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করে নাটক মঞ্চস্থ করছে প্রশাসন। একাত্তরের পরাজিত দোসরদের হামলা ভাঙচুর থেকে বাদ যায়নি প্রশাসনিক ভবন, বঙ্গবন্ধু চত্বর। এ ঘটনায় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে বিচার করতে হবে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্থগিত কমিটির সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন সুমন, সহ-সভাপতি এনামুল হক আরাফাত, সহ-সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও যুগ্ম সম্পাদক বায়েজীদ সজল প্রমুখ।

এদিকে তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করলেও ওই শিক্ষককে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে সভাপতি ও তার অনুসারীরা। প্রতিবেদন পাবার পর পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে আলমগীর টিপু জাগো নিউজকে জানান, ভাঙচুর অন্যরা করেছে। আমরা কেউ ভাঙচুর করিনি। আমির উদ্দিনের পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছে তারা জলঘোলা করতেই এসব করেছে। তবে ঘটনার সময় তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

এদিকে দুই নেতার পাল্টাপাল্টি এমন অবস্থানে ক্যাম্পাস জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় সংঘাতের আশংকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্গলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি আতংকে ভুগছে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে এমন উত্তেজনায় তাদের ভীতি কাজ করছে। বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে সংঘাতময় কিছু হলে সেশন জটে আটকে যেতে পারে শিক্ষা জীবন। তাছাড়া এসব পাল্টাপাল্টি অবস্থান নতুন শিক্ষার্থীদের ভিন্ন বার্তা দেবে বলে মনে করছেন তারা।

আবদুল্লাহ রাকীব/এফএ/আইআই

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :