এবার জাবির সেই ছাত্রের বিরুদ্ধেই ছাত্রীদের অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৪:০৮ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৭
এবার জাবির সেই ছাত্রের বিরুদ্ধেই ছাত্রীদের অভিযোগ

যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ থেকে সরে এসে ‘শারীরিক নিপীড়নের’ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ১ম বর্ষের (৪৬ তম আবর্তন) এক ছাত্র। সোমবার বিভাগের সভাপতি ও প্রক্টর বরাবর একটি অভিযোগ দিয়ে এমন তথ্যই জানিয়েছেন ওই ছাত্র।

গতকাল প্রক্টর বারবর অভিযোগে যৌন নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে অভিযোগ দিলেও আজকে সেই অভিযোগ বাদ দিয়ে মানসিক ও শারীরিক লাঞ্ছনা, অশ্লীল কথাবার্তা এবং মারধরের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ১৩ শিক্ষার্থীকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চারুকলা বিভাগের সভাপতি এম এম ময়েজ উদ্দিন।

অন্যদিকে ওই ছাত্রকে কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি বরং ওই ছাত্রই ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করেছে- এমন অভিযোগ তুলে সোমবার বিকেলে প্রক্টর বরাবর পাল্টা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার দাবি করেছেন অভিযুক্ত ৩য় বর্ষের তিন ছাত্রী ও তার বন্ধুরা।

এ ঘটনাটি গত ২২ নভেম্বর ঘটলেও রোববার প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ওই ছাত্র। অভিযোগে তিনি বলেন, আমার ও আমার দু’জন বন্ধুর উপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। আপত্তিজনকভাবে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাতাহাতি এবং বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তার মাধ্যেমে যৌন নিপীড়ন করা হয়।

মারধরের কথা অস্বীকার করে অভিযুক্ত দু’জন বলেন, ওই ছাত্র প্রায়ই মাদকাসক্ত থাকে। তাই সে অসংলগ্ন আচরণ করতো। ওইদিন সে ছাত্রীদের সঙ্গেও এ রকম আচরণ করতে থাকে। এ কারণে আমরা ওইদিন তাকে ডেকে নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে চাই, কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করে। আমরা তার নাম জানতে চাইলেও সে তার নাম বলতে অস্বীকৃতি জানায়। এক পর্যায়ে আমাদের কয়েকজন তাকে ধমকাধমকি ও গালিগালাজ করে। কথা বলার একপর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে চোখে পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয় এবং মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় একই ব্যাচের তিনজন ছাত্রী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে কোনো ধরনের শারীরিক-মানসিক নিপীড়ন করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ওই ছাত্রের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সে মারধরের কথা বলেছে কিন্তু যৌন নিপীড়নের কথা বলেনি। বিষয়টি বিভাগের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। তারাই এটা সমাধান করবে।

চারুকলা বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক এম. এম ময়েজ উদ্দীন বলেন, অভিযোগপত্রে যৌন নিপীড়নের কোনো কথা বলা নেই। শুধু মারধর, শারীরিক-মানসিক লাঞ্ছনার কথা বলা আছে। বিভাগীয় ছাত্র উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তদন্ত করার জন্য। তদন্ত শুরু হয়ে গেছে।

হাফিজুর রহমান/আরএআর/আইআই

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com