একই পদের দাবিদার ১৮ জন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০২:১৭ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০১৮

সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ৩ দিনেও রহস্যজনকভাবে প্রকাশ করা হয়নি তালিকা।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা সভাপতি মাহফুজুর রহমান সুমন তালিকা প্রকাশ না করে ইচ্ছেমতো যাকে তাকে পদ দিচ্ছেন। রয়েছে পদ বাণিজ্যের অভিযোগও।

গত শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ প্রায় ৯ মাস পর সন্দ্বীপ উপজেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়। যাতে মাহফুজুর রহমান সুমনকে সভাপতি ও সামিউদ্দৌলা সীমান্তকে সাধারণ সম্পদক, সহ-সভাপতি পদে নয়জন, যুগ্ম সম্পাদক পদে সাতজন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পাঁচজনসহ ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দেয়া হয়।

এর আগে গত বছরের ২০ মার্চ ১৫ সদস্যের আংশিক কমিটিতে সহ-সভাপতি ছিলেন চারজন। তারা হলেন- মহিদুল সিকদার জিকু, মো. ইয়াকুব, মো. মোক্তাদির মওলা ফয়সাল, মারুফুল ইসলাম বাবু।

তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নতুন করে আরও পাঁচজনকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। এ পদে মোট নয়জন হলেও ইতোমধ্যেই ১৮ জন একই পদের দাবি করেছেন।

একই ঘটনা ঘটেছে যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও। আংশিক কমিটিতে তিনজন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নতুন করে চারজনসহ মোট সাতজনকে যুগ্ম সম্পাদকের পদ দেয়া হয়।

সাংগঠনিক সম্পাদকে পদে আংশিকে দুইজন ও পূর্ণাঙ্গতে নতুন করে তিনজনসহ মোট পাঁচজন। তবে এখানেও পদ সংখ্যার দ্বিগুণ দাবিদার রয়েছেন।

এদিকে তালিকা প্রকাশ না করায় কেউই জানতে পারছেন না প্রকৃত পদপ্রাপ্ত কারা। প্রকৃত কমিটি ৭১ সদস্যের হলেও ১২১ সদস্যের বলেও প্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এসব বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটির পাঁচ নেতার কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা অভিযোগ করেন, উপজেলা সভাপতি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশে গড়িমসি করছেন। যাতে করে ইচ্ছেমতো পদ বাণিজ্য করতে পারেন। এছাড়া সকালে এক পদ দিয়ে বিকেলে দেয়া হচ্ছে অন্যপদ।

সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. ইয়াকুব বলেন, কখনো ৮১, কখনো ১২১ সদস্যের কমিটি বলে প্রচার করছেন সভাপতি। টাকার বিনিময়ে ও নেতাদের মন জয় করতে যাকে ইচ্ছে তাকে পদ দিচ্ছেন। এমনও অনেক পদ দেয়া হচ্ছে যেগুলো গঠনতন্ত্রেই নেই। একজন একাধিক পদও দেয়া হচ্ছে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তানিনের যৌথ সিন্ডিকেট এ কাজ অপকর্ম করছে। এ দায়ভার সম্পূর্ণ তাদের।

তাদের এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যেখানে অনেকেই উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে নিজেদের বিভিন্ন পদের দাবিদার বলে উল্লেখ করছেন। এতে করে তৃণমূল কর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। ক্ষোভও জানিয়েছেন অনেকে।

উপজেলা ছাত্রলীগ কর্মী মো. সাইমুন ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সভাপতি তার ভাইয়ের মাধ্যমে টাকা নিয়ে দেড়শ জনের কাছে পদ বিক্রি করেছেন। এর সঙ্গে আরও দুইজন জড়িত। এ দায়ভার উপজেলা ছাত্রলীগের কোনো কর্মী নেবে না। অচিরেই প্রকৃত পদপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হোক।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান সুমন জাগো নিউজকে বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে আমরা বসব। এরপর তালিকা প্রকাশ করে চিঠি ইস্যু করব। তবে ইউনিট কমিটির চিঠি ইস্যু করার এখতিয়ার আছে কিনা এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

তিনি বলেন, যোগ্যদের উপজেলা কমিটিতে পদ দিতে না পারলেও ইউনিয়ন ও কলেজ কমিটিতে পদ দেয়া হবে। এ সময় পদ বাণিজ্যের বিষয়টি জানতে চাইলেও এড়িয়ে যান তিনি।

জেলার অনুমোদিত সংখ্যার বাইরে পদ দেয়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বখতিয়ার সাঈদ ইরান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দিয়েছি। শুধু তাদেরই পদপ্রাপ্তির চিঠি দেয়া হবে। দলীয় কর্মসূচির কারণে তালিকা গণমাধ্যমে পাঠানো হয়নি। তবে শিগগিরই পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, অনুমোদিত কমিটির বাইরে যারা পদের দাবি করবে এবং অর্থ লেনদেনের প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আবদুল্লাহ রাকীব/এএম/আইআই

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :