গাড়ি পার্কিং নিয়ে জাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী দ্বন্দ্ব : তদন্ত কমিটি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১০:২৬ এএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ১০:৩৯ এএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
গাড়ি পার্কিং নিয়ে জাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী দ্বন্দ্ব : তদন্ত কমিটি

অবৈধ গাড়ি পার্কিং নিয়ে বটতলায় ঘটে যাওয়া ঘটনায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও বাংলা বিভাগের সহযোগী ড. নাজমুল হাসান তালুকদার জাগো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল জব্বার হাওলাদার, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. পৃথ্বিলা নাজনীন নীলিমা, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড. রাশেদা ইয়াসমিন শিল্পী ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. আবু হাসান। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ওই ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা কমিটি কর্তৃক যে সুপারিশ দেয়া হয়েছিল সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারাজানা ইসলামের উপর হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় খাবার দোকান সংলগ্ন রাস্তায় নিজের গাড়ি রেখে খাবার খেতে যান ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান। সংস্কার কাজ চলা সেই রাস্তার সংকীর্ণ জায়গার উপরেই গাড়িটি রাখায় পথচারী ও অন্যান্য গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। তাই প্রথমে সেখানকার দায়িত্বরত গার্ড গাড়িটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে বললে নাহরিন ইসলাম খান শিক্ষক পরিচয় দিয়ে গাড়ি সরাতে অস্বীকৃতি জানান।

এ সময় পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আইন ও বিচার বিচার বিভাগের ৪৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আরমানুল ইসলাম খানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষককে গাড়ি সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু নাহরিন ইসলাম গাড়ি না সরিয়ে আরমানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে যান। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষক আরমানকে মারতে উদ্যত হন এবং অপর শিক্ষার্থীদেরকে ‘দেখে নেয়ার’ হুমকি দেন।

উপস্থিত শিক্ষার্থীরা নাহরিন ইসলাম খানকে তিনি কোন বিভাগের শিক্ষক তা জানতে চাইলে তিনি পরিচয় না দিয়ে কেবল বলেন, আমি শিক্ষক, ১৩ বছর ধরে শিক্ষকতা করি। কোন বিভাগের শিক্ষক তা আমি দেখাচ্ছি। পরে সহকারী প্রক্টর মেহেদী ইকবাল, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিন ও শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত ওই শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।

এ ঘটনার জেরে ওইদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর ওই দুই শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে নাহরিন ইসলাম মৌখিক লাঞ্ছনার অভিযোগ দেন।

পরে আরমানুল ইসলাম খান প্রক্টর বরাবর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগে অশোভন আচরণ, শারীরিক লাঞ্ছনা ও হুমকির বিচার চেয়ে আবেদন করেন।

হাফিজুর রহমান/এফএ/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com