ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদে নেতা চায় জাবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০১:০৭ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ মার্চ। সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পরপরই কেন্দ্রীয় কমিটিতে শীর্ষ পদ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তবে এবারের কমটিতে শীর্ষ পদে দলের বিভিন্ন সংকটকালীন সময়ে আনুগত্য ও দক্ষতার পরিচয় দেয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে মূল্যায়ণ করা হবে বলে মনে করেছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতা, কর্মী ও আওয়ামী পন্থী শিক্ষকরা।

জানা যায়, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বেশির ভাগ কমিটির শীর্ষপদসহ অন্যান্য গূরুত্বপূর্ণ পদ এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ থেকে। গত তিনটি কমিটির অধিকাংশ শীর্ষ পদেই রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা। ক্রমাগত শীর্ষ পদ প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হওয়ায় ঢাকার আশপাশ ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তবে ছাত্রলীগের এবারের কমিটি গঠনের দায়িত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির ত্যাগী, দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন সাবেক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতারা থাকায় গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সফল নেতারাই শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হবে বলে মনে করছেন অনেকে। আর এক্ষেত্রে ত্যাগ, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ থেকে কমিটিতে শীর্ষ পদ প্রত্যাশা করছেন তারা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নেতা-কর্মী দাবি করে বলেন, ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ নেতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ থেকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন একেএম এনামুল হক শামীম ও জয়পুরহাট-২ এর সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

নেতা-কর্মীরা জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একমাত্র একেএম এনামুল হক শামীম ১৯৯৪-৯৮ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ একাধিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এনামুল হক শামীমের পর আর শীর্ষ দুটি পদে নেতৃত্বের দেখা পায়নি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। তবে এর পর মেহেদী জামিল সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক ও সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

এছাড়া ২০০৫-০৯ কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক পদে ছিলেন এসএম সাদাত হোসেন। ১৯৯৪-৯৮ সালের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশবিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করার পর অনেকেই দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য, উপ-সম্পাদক, সহ-সম্পাদক ও সর্বশেষ সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছে।

একাধিক আওয়ামীপন্থী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বলেন, প্রতিটি সক্রিয় নেতা-কর্মীর লক্ষ্য থাকে নিজের মূল্যায়নের সর্বোচ্চ ফলাফলটি নিশ্চিত করা। আর এক্ষেত্রে বারবার শুধুমাত্র ঢাকা কেন্দ্রিক কমিটি গঠন হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়তা কমার পাশাপাশি দল থেকে তাদের মূল্যায়নের বিষয়টি নিয়ে চাপা অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ঢাকা কেন্দ্রিক শীর্ষ নেতৃত্ব গঠনের মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে সক্রিয় ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল কমিটিতে শীর্ষ পদ নিশ্চিত করার বিষয়টির উপর জোর দিতে হবে। এতে করে তৃণমূলে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়তা বাড়ার পাশাপাশি ত্যাগী ও দক্ষ নেতা-কর্মী তৈরি হবে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, বিগত সময়ের থেকে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ইউনিট। জাতির পিতার স্বপ্ন বিনির্মাণে এবং জননেত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে আমাদের ইউনিট। এক সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন একেএম এনামুল হক শামীম ভাই, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এজন্য ওই জায়াগা থেকে আমদের দাবি কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদে জাবি ছাত্রলীগ থাকুক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, দলের কাজের জন্য সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব ভালো। এজন্য রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতা নির্বাচনে স্বচ্ছতা থাকা দরকার এতে সকল ইউনিটের নেতারা উৎসাহিত হবে। আর জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগের অবস্থান অন্য যেকোনো ইউনিটের চাইতে অনেক ভালো। এজন্য যারা নেতা বাছাই করবেন তারা ত্যাগী, সৎ ও দক্ষ নেতা বাছাই করবেন।

জয়পুরহাট-২ এর সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা দক্ষতা ও স্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছে তাদেরকে মূল্যায়ন করা হয়। এটা কেন্দ্রীয় কমিটিতে কতদিন সেবা দিয়েছে তার উপর নির্ভর করে। আমাদেরও প্রত্যাশা থাকবে যাতে দক্ষ নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে মূল্যায়িত হয়।

হাফিজুর রহমান/এফএ/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :