বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের প্রতি মোমের আলোয় শ্রদ্ধা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১০:২৯ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৮ | আপডেট: ১১:৩৪ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৮

নেপালে বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় শোকাতুর জাতি। মাতম চলছে ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে। রক্তের বাঁধন ছাড়াও যে কারও মৃত্যুতে হৃদয়ে ক্ষত তৈরি করতে পারে, তার প্রমাণ ইউএস-বাংলার ফ্ল্যাইট বিধ্বস্তে মৃতরা। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারি বাংলার আকাশ। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেঁচে থাকাদের পরিবারের মৃত্যু সংবাদের অপ্রত্যাশিত উৎকণ্ঠা।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, বিমানটিতে ৬৭ আরোহীর মধ্যে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে পাইলট, ক্রুসহ ২৬ বাংলাদেশি মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ জন নেপালি শিক্ষার্থী ছিলেন। এদের ১১ জনই নিহত হয়েছেন। এ খবরে শোকের ছায়া বইছে পুরো বাংলায় ও নেপালে। আহতদের সুস্থতা কামনায় ও নিহতদের পরপারে ভালো রাখতে স্রষ্টার দরবারে হাত তুলেছেন সব ধর্মের মানুষ। সারাদেশে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে নিহতদের।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোমবাতি প্রজ্বলন করে নিহতদের স্মরণ করা হয়। মোমবাতির আলোয় শ্রদ্ধা জানিয়ে নিহতদের স্মরণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লোগান-৭১। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) প্রবেশমুখে দেয়াল মোমবাতি প্রজ্বলন করে সংগঠনটি। আর টেবিলে রাখা রজনীগন্ধা ফুলে ফুটে উঠেছে নিহতদের প্রতি ভালোবাসা।

এর কিছু সময় আগে টিএসসিসংলগ্ন সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে নিহতদের প্রতি। শোক প্রকাশ করে এতে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক (বোসান) এবং টিএসসিভিত্তিক সংগঠন স্লোগান একাত্তরও। সেখানে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা ও স্যালুট দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এ সময় তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। যাতে ‘হার্টফেল্ট কনডোলেন্স টু অল দ্য প্রিভিয়াস সোলস অব প্লেন ক্র্যাশ ইন নেপাল’, ‘ব্ল্যাক ডে ফর মেডিকেল ফ্রেন্ডস’,‘উই মর্ন ফর অল দ্য ডিপার্টেড সোল অব ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন ক্র্যাশ’,‘ডেথ লিভস এ হার্টেক, নো ওয়ান ক্যান হিল, লাভ লিভস এ মেমোরি, নো ওয়ান ক্যান স্টিল ‘ ও ‘রেস্ট ইন পিস’ ইত্যাদি লেখা ছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেপালি শিক্ষার্থী ডা. জাস গুরুং বলেন, ‘যারা বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই৷ তাদের সকলের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’

উল্লেখ্য, সোমবার নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে চার ক্রু, দুই শিশুসহ ৬৭ আরোহী নিয়ে বাংলাদেশি ইউএস-বাংলার বিএস-২২১ ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫০ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। ঘটনাস্থলে মারা যান ৩২ জন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১ যাত্রী। ৩২ যাত্রী ও চার ক্রুসহ মোট ৩৬ বাংলাদেশি ওই ফ্লাইটে ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে। আর ৩৩ জন নেপালি, একজন মালদ্বীপ ও একজন চীনের নাগরিক ছিলেন।

এমএইচ/জেডএ/বিএ

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com