ইবির হলে মাদকবিরোধী অভিযান, ছাত্রলীগের তাণ্ডব

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হল থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও ছাত্রলীগ কর্মীসহ দুই বহিরাগতকে আটকের পর ক্যাম্পাস জুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রক্টরের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হল থেকে একজন ছাত্রলীগ কর্মীসহ দুইজন বহিরাগতকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চাপাতিসহ আটক করে প্রক্টরিয়াল বডি। তাদেরকে আটকের প্রতিবাদে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায় ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা।

bcl-2

তাণ্ডবের এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বঙ্গবন্ধুর মুর্যাল ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ এর দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ কর্মীরা। তারা প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের পদত্যাগও দাবি করেন। এ সময় প্রায় অর্ধশত ককটেলের বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্যাম্পাসসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের ১২৮ নং রুমে অভিযান চালায় প্রক্টরিয়াল বডি। এ সময় লোক প্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনের কর্মী আকাশ, বহিরাগত দানিয়েল ও তরিকুলকে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য এবং ১০টি চাপাতিসহ আটক করা হয়।

তবে হলের গেট থেকে ওই তিনজনকে গাড়িতে উঠানোর সময় বহিরাগত তরিকুল পালিয়ে যায়। পরে বাকি দুইজনকে থানায় নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে প্রক্টরিয়াল বডি। পরে থানা থেকে আকাশকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

bcl-4

এদিকে তাদেরকে আটকের ঘটনায় সভাপতি গ্রুপের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা লাঠি মিছিল বের করে। মিছিল থেকে প্রক্টরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়। মিছিলের এক পর্যায়ে ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটি সিসি ক্যামেরা, প্রধান ফটকের মনিটরিং রুম, ওয়াইফাই রাউটার, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া ভাঙচুরসহ পুরো ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালানো হয়।

মিছিলটি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি স্মারক ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ অতিক্রমকালে এতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। রাত ৮টার দিকে ছাত্রলীগ সভাপতির নেতৃত্বে পুনরায় মিছিল বের করা হয়। এ সময় মিছিল থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার গ্রুপের এক সিনিয়র নেতা বলেন, ‘হল ছাত্রলীগকে না জানিয়ে হলে অভিযান চালানো ও গ্রেফতারে আমরা প্রতিবাদ করেছি মাত্র।’

bcl-27

প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে হলে প্রক্টরিয়াল বডিকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুইজন বহিরাগতকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়। পরে একজন পালিয়ে যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘মাদকের সাথে যেই জড়িত থাকুক তাদের ছাড় দেয়া হবে না। আজকের ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/আরএস/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :