রঙের উৎসবে বিদায়ের সুর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৮

ছাত্রজীবন নিয়ে বিষিয়ে ওঠা ছেলেটির চোখও অশ্রুসজল। কবে যে পাস করে কর্মজীবনে ঢুকব। ক্যাম্পাস ছাড়লেই রক্ষা। কিন্তু এখন বুঝছি, জীবন থেকে কী সময় হারিয়েছি। বিষাদমাখা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের(বেরোবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্রী উদিতি অধিকারী।

কথাগুলো যখন বলছিলেন তখনো চলছিল চারপাশে রঙের ছড়াছড়ি আর হইহুল্লোড়। বাদ্যযন্ত্রের তালেতালে চারদিকে উৎসবের আমেজ।

মঙ্গলবার সকালে কেক কাটার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই র্যাগডে অনুষ্ঠান। সূর্যের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে হাজির সব শিক্ষার্থী। এরপর ছিল শোভাযাত্রা। ঢোল, ভুভুজেলাসহ বাহারি সব বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি।

বিদায়ী শিক্ষার্থীরা সবাই পড়েন ধবধবে সাদা টি-শার্ট। সহপাঠীদের লেখা আর রঙে ভরে যায় সাদা টি-শার্ট। কেউ একজন খুব গোপনে লিখেছেন, ভালোবাসাটা মনেই থেকে গেলো। আরেকজন লিখেছেন, যেখানেই থাকি, মনটা থাকবে তোর কাছেই।

স্মৃতিচারণায় শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেন হলজীবন ও ক্যাম্পাসের নানা সুখস্মৃতি। কেউ কেউ হয়ে পড়েন আপ্লুত। বিদায়ী ছাত্র নিয়াজ আহমেদ বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন মানেই অদ্ভুত সব বন্ধুত্বের গল্প। কত ঝগড়া, রেষারেষির পর আবার গলাগলি। সেই সময়গুলোই কাঁদাচ্ছে আমাদের। লাল ইটের আর কৃষ্ণচূড়ার বেরোবি ক্যাম্পাস সব সময়ই রঙিন ছিল, আছে, থাকবে।

BRU1

রিফাতুন জান্নাত বলছিলেন, একসঙ্গে ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, গ্রুপ স্টাডি, বিকেলবেলায় আড্ডা, এখানে-সেখানে ঘুরতে যাওয়া, রাত জেগে ক্যাম্পাসে ঘুরাঘুরি আর অনেক সময়জুড়ে বন্ধুদের মধ্যে চলা মান-অভিমান। আজ মনে হচ্ছে সব হারিয়ে বেশ একা হয়ে যাচ্ছি।

রাসেল আহমেদ বলেন, জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কাটিয়েছি এই ক্যাম্পাসে। চোখের পলকেই যেন সময় ফুরিয়ে গেল। বিদায়ের কথা ভেবে খারাপ লাগছে। আবার আছে ভালো লাগাও। এখন কর্মজীবনের হাতছানি।

সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস উড়ানো হয় ফানুস। রাতে একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় আয়োজন করা হয় স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা ও ডিনার পার্টির। এতে লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি জুবায়ের ইবনে তাহেরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোরশেদ হোসেন।

এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রভাষক সামান্থা তামরিন ও বিভাগটির সাবেক শিক্ষক রিতু কুণ্ডু।

সজীব হোসাইন/এএম/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :