হিমঘরে বেরোবির ভর্তি জালিয়াতির তথ্যানুসন্ধান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
প্রকাশিত: ০১:১৫ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৮

হিমঘরে চলে গেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের(বেরোবি) ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির তথ্যানুসন্ধান। তিন মাসেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। ধরাছোঁয়ার বাইরে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্রটি। উল্টো জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচনকারী দুই শিক্ষককে ভর্তি কার্যক্রম থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্যানুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আজিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সময় লাগছে। অনুসন্ধান শেষের দিকে। তবে কবে নাগাদ প্রতিবেদন জমা দিতে পারবেন সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে গত ২৬-২৯ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাক্ষাতকার ও ভর্তির জন্য ১৭ ডিসেম্বর নির্ধারিত দিন ছিল। ওই দিন মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে ছয় শিক্ষার্থীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির কথা স্বীকার করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এই ছয় শিক্ষার্থী হলেন ‘বি’ ইউনিটের শামস বিন শাহরিয়ার, রিফাত সরকার ও সাদ আহমেদ, ‘সি’ ইউনিটের আহসান হাবীব ও শাহরিয়ার আল সানি এবং ‘এফ’ ইউনিটের রোকসান উজ্জামান। একই দিন ক্যাম্পাসে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকেও আটক করা হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবু কালাম মো. ফরিদ উল ইসলাম কোতোয়ালি থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই জালিয়াতির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাড়াও এক নারীর জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে স্বীকারোক্তি দেন ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটে মেধাক্রমে প্রথম হওয়া শামস বিন শাহরিয়ার। আটক শিক্ষার্থীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২৯ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী রাহেল চৌধুরীকে আটক করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় অধিক তদন্তের জন্য তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেন ২৮ ডিসেম্বর। ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আজিজুর রহমানকে তথ্যানুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক এবং সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ শামসুজ্জামানকে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য হলেন সহকারী প্রক্টর এবং ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আতিউর রহমান।

তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠনের তিন মাস পেরুলেও জমা পড়েনি তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন। যথাসময়ে তথ্যানুসন্ধান শেষ না হওয়ায় চাপা পড়ে যাচ্ছে ভর্তি জালিয়াতির বিষয়টি।

এদিকে, ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। চাকুরিতে এখনও বহাল রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই কর্মচারী রাহেল চৌধুরী। উল্টো ভর্তি কার্যক্রম থেকে বাদ দেয়া হয়েছে জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচনকারী দুই শিক্ষককে। বাদ দেয়া লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রভাষক আসাদ মণ্ডল ও সামান্থা তামরিন ওই ইউনিটের ভর্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীর জাগো নিউজকে বলেন, ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না।

এ মামলার তদন্ত করছেন বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে নিয়োজিত উপপরিদর্শক (এসআই) মহিব্বুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, মামলাটির তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। তাই এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ভর্তি জালিয়াতির সার্বিক বিষয়ে জানতে উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সজীব হোসাইন/আরএ/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :