রাবি শিক্ষার্থীকে রামেক ছাত্রলীগ নেতার মারধরের অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৫:২০ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮
রাবি শিক্ষার্থীকে রামেক ছাত্রলীগ নেতার মারধরের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) ছাত্রলীগের নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে নগরীর বন্ধ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার কামাল হোসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়।

অভিযুক্ত রামেক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান সাজুর বাড়িও নেত্রকোনায়।

কামালের অভিযোগ, পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে সাজু ওরফে সাজু বাঙালি ৫-৬ জন যুবককে সঙ্গে নিয়ে তাকে মারধর করেন।

কামালের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কামালের মারধরের খরব জানতে পেরে তাকে অসুস্থ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করান। এ সময় কামালের পিঠ, মাথা ও পায়ে মারাত্মক রকমের জখম দেখতে পান তারা।

ভুক্তভোগী কামাল হোসেন জানান, কয়েকদিন থেকে তার মাথা ব্যথা করছিল। তাই তিনি মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে রামেকে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছিলেন। দুপুর ২টার দিকে বাস থেকে নগরীর লক্ষ্মীপুর বাসস্ট্যান্ডে নামেন তিনি।

এ সময় রামেক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজু বাঙালিসহ ৫-৬ জন যুবক তাকে জোর করে অটোতে তুলে নেয়। তারা কামালকে অটোতে করে লক্ষ্মীপুরের বন্ধগেট এলাকার এক ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে তারা কামালকে রড ও পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এক পর্যায়ে কামালকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য তার শার্ট ও প্যান্ট খুলে উলঙ্গ করে ছবি তোলেন মারধরকারীরা।

অনৈতিক সম্পর্ক করতে গিয়েছে এই মর্মে কামালের কাছ থেকে জবানবন্দি রেকর্ড করেন তারা। কামালের কাছে থাকা আড়াই হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোনও কেড়ে নেয় মারধরকারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে কামালকে দেখতে যাই। কামালের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি- মারধরকারী ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজুর সঙ্গে তাদের পারিবারিক দ্ব›দ্ব রয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। তারপর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাজু জাগো নিউজকে বলেন,‘তাকে আমি মারধর করিনি। কারা করেছে সেটাও জানি না।’

তবে কামালের সঙ্গে তার পূর্ব শত্রুতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কামাল আমার এলাকার ছোট ভাই। সে দীর্ঘদিন ধরে আমার ছোট বোনকে বিরক্ত করে আসছিল। তাকে বারবার এটা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু কামাল তা বন্ধ করার বিপরীতে আমাকে ও আমার পরিবারকে সবসময় হয়রানি করেছে।’

রাশেদ রিন্টু/বিএ

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com