প্রকাশিত সংবাদে রাবির প্রতিবাদ

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৪ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

গত ১২ নভেম্বর ‘জাগোনিউজ২৪.কম’ অনলাইন পত্রিকায় ‘মেয়ে-জামাইকে নিয়োগ দিতে রাবি ভিসির কাণ্ড’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে প্রেরিত প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয় যে, প্রতিবেদনে রাবি উপাচার্য এবং তার মেয়ের ব্যক্তিগত সম্মান, খ্যাতি বা সুনাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নষ্ট করা হয়েছে।

প্রতিবাদে আরও উল্লেখ করা হয় যে, উপাচার্য ইতিপূর্বে কখনই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কন্যার চাকুরীর জন্য চেষ্টা করেননি। কিন্তু প্রকাশিত এবং ব্যক্তিগতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে প্রচারিত সংবাদটিতে এ বিষয়ে উপাচার্য মহোদয়কে নিয়ে রাবি ক্যাম্পাসে ‘প্রচার রয়েছে’ বলে দাবি করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে এবং বাস্তব চাহিদার নিরিখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগোপযোগী বিষয়গুলোরই শিক্ষা দেবার নিমিত্তে নতুন বিভাগ শিক্ষার্থীদের জন্য খোলার ব্যবস্থা করে থাকে; তারই ধারাবাহিকতায় ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগটি খোলা হয়েছে, যার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন পূর্বেই নেয়া হয়েছিল এবং একেবারেই ইউজিসির আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা করা হয়েছে। ইউজিসির অনুমোদনের প্রেক্ষিতে বিভাগটি খোলা হয় এবং এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা সাপেক্ষে হয়েছে এবং বিভাগটি খোলার সিদ্ধান্তও সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে।

প্রতিবাদে বলা হয়, সানজানা সোবহান প্রকৃতপক্ষে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার নিয়োগের জন্য শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তনের সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ গ্রহণযোগ্য নয়; এ কারণ যে, সানজানা সোবহানের পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারিত যোগ্যতার চেয়ে বেশি। বর্তমান শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, এসএসসি/এইচএসসিতে ৩.৫০/৪.০০ এবং বিবিএ/এমবিএতে ৩.২৫/৩.৫০ জিপিএ প্রাপ্তরা আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে সানজানার একাডেমিক রেজাল্ট যথাক্রমে এসএসসি জিপিএ ৫.০০, এইচএসসি জিপিএ ৪.৩০, বিবিএ ৩.৬৫ এবং এমবিএ-তে ৩.৭০৮। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে যে, ‘শিক্ষক হওয়া তো দূরের কথা উপাচার্যের মেয়ে সানজানা আবেদনই করতে পারতেন না’। তার মেধা ও পরীক্ষার পারফরমেন্সের ভিত্তিতে নিয়োগ বোর্ড তাকে নিয়োগ দিয়েছেন এবং ওই বোর্ডে উপাচার্যও ছিলেন না। অথচ ‘মেয়ে-জামাইকে নিয়োগ দিতে রাবি ভিসির কাণ্ড’ শিরোনামের সংবাদটি ব্যক্তিগত আক্রোশ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।

প্রকাশিত রিপোর্টে সাবেক এক উপাচার্যের বরাত দিয়ে ‘নীতিমালা পরিবর্তন করে মেয়েকে চাকুরী দিয়ে সেই বিতর্কে ঘি ঢাললেন’ অংশটিও বানোয়াট ও পরিকল্পিত মিথ্যা; কারণ তথ্যটি বর্তমান উপাচার্যের জন্য প্রযোজ্য নয়; তথ্যটি সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। কেননা ওই উপাচার্য তড়িঘড়ি করে ইংরেজি বিভাগে তার মেয়ের নিয়োগ সম্পন্ন করার পর শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তন করেন। তিনি সিদ্ধান্তটি নিজের মেয়ের নিয়োগের পূর্বে করলেই কেবল বোঝা যেত তার কোনো দুরভিসন্ধি ছিল না।

প্রতিবাদে বলা হয়, বর্তমান প্রশাসন পূর্বের প্রশাসনের মতো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য উপযোগী করে কোনো নিয়ম তৈরি করে না কিংবা নিয়োগ প্রদানের ব্যবস্থাও করে না। বরং মেধার গুরুত্ব দেয়। সেক্ষেত্রে যদি ভালো রেজাল্টের কেউ যদি চাকুরী পেয়ে যান তবে আত্মীয় হওয়াটা তার জন্য কোনো অপরাধ নয়। এমনটিও নয় যে, শুধুমাত্র একজন বা দুজনের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সুচারুরূপে ,পরিচালনার স্বার্থে যেখানে যেখানে প্রয়োজন সেখানেই নির্দিষ্ট বিভাগ/ইনস্টিটিউটের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক বিজ্ঞাপিত পদেই কেবলমাত্র শিক্ষক নিয়োগ করছে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কোনো ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক দিকনির্দেশনার সর্বোচ্চ ব্যক্তি হিসেবে তিনি অনেক সময় সকাল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকেন; সবসময় ফোন রিসিভ করা তার পক্ষে ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হয়ে ওঠে না।

প্রতিবাদে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেদক ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে উপাচার্য ও তার মেয়েকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয় করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কল্পনাপ্রসূত সংবাদটি মুখোরচকভাবে পরিবেশন করেছেন।

এমএআর/আরআইপি

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :