রাবিতে বিসিএসের ফরম পূরণে এ কেমন প্রতারণা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:১৮ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৮

৪০তম বিসিএস পরীক্ষার ফরম ভুলভাবে পূরণ করে দেয়ায় পরীক্ষায় বসা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি সামনে আসার পর ওই তিনজনকে আটক করে প্রক্টর অফিসে দুপুর পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে তাদেরকে মতিহার থানা পুলিশে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আটকরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন মার্কেটের স্পন্দন কম্পিউটারের মালিক মোস্তাক আহমেদ মামুন, ভাই ভাই কম্পিউটারের আরিফ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম।

অভিযুক্তদের পুলিশে সোপর্দ করা হলেও এবারের বিসিএস পরীক্ষায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন কি-না এমন শঙ্কা প্রকাশ করে জামাল উদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরম পূরণের সময় দেয়া ছিল। পিএসসি নিজেদের মতো করে চলে। তারা যদি আমাদেরকে সুযোগ না দেয় বা এর মধ্যে যদি বিষয়টি ঠিক করা না যায় তাহলে পরীক্ষায় বসা অনিশ্চিত হয়ে যাবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসা নিয়ে আশঙ্কার কোনো কারণ নেই জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. লায়লা আরজুমান বানু জাগো নিউজকে বলেন, পিএসসির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা পাঠানোর কথা জানিয়েছে তারা। এরপর পিএসসি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং শিক্ষার্থীদের টাকা প্রদানের জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হবে।

এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তোভোগী হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মোমিন হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে তারা টাকা নিয়েছে। তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি আমরা। এর আগে তাদের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যেটি শিক্ষার্থীদেরকে ফেরত দেয়া হবে। পিএসসির সঙ্গে কথা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবন্ধী না হওয়া স্বত্বেও প্রায় তিন শতাধিক প্রার্থীকে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবন্ধী কোটায় ফরম পূরণ করে দিয়েছে অভিযুক্তরা। যদিও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোটা ব্যতীত পিএসসি নির্ধারিত ফি ৭০০ টাকা নিয়েছে তারা। আর প্রতিবন্ধী কোটায় ১০০ টাকায় ফরম পূরণ করায় তাদের পকেটে গেছে বাকি ৬০০ টাকা। সকালে তাদের এমন উদ্দেশ্যমূলক কাজের বিষয়টি ধরা পড়লে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়। এর প্রেক্ষিতে তাদেরকে আটক করে প্রক্টর দফতরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের পুলিশে দেয়া হয়।

সালমান শাকিল/আরএআর/জেআইএম

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :