হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রারের ভিডিও ভাইরাল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৩:১৬ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০১৮

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের রেজিস্ট্রার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড.শফিউল আলমকে লাঞ্ছনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। লাঞ্ছনাকারী ওই দুই সহকারী অধ্যাপক মহসেন মিঠু ও আবু বক্কর সিদ্দিককে বহিষ্কারসহ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে দুইটার সময় হাবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলায় রেস্ট্রিারের কক্ষের সামনে রেজিস্ট্রারকে কিল ঘুষিসহ টেনে হেঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনার ভিডিওটি ওই দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রাতারাতি ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। ছাত্র শিক্ষক, সচেতন মানুষ ও হাবিপ্রবির প্রাক্তন ছাত্র এবং রেজিস্ট্রারের সাবেক ছাত্ররা হৃদয়স্পর্শকারী স্ট্যাটাস দিতে থাকেন। এ নিয়ে ক্যাম্পাসেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

রিয়াদ খান নামে এক ছাত্র ফেসবুকে লিখেছেন, ‘লজ্জা... আমরা লজ্জিত...হাবিপ্রবি পরিবার লজ্জিত...এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই....হাবিপ্রবির মাননীয় রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. শফিউল আলমের উপর হামলার ভিডিও ফুটেজ। কুলাঙ্গার মহসেন মিঠু ও আবু বক্কর সিদ্দিকের বহিষ্কার ও বিচার চাই। ছাত্রজনতা কি চুপ থাকবে এরপরও??? হাবিপ্রবি পরিবার কি চুপ থাকবে। এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত করতে হবে। প্রফেসর আমাদের কৃষি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক ও অধ্যক্ষ ছিলেন। আগামী রোববার থেকে এদের বিরুদ্ধে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাধারণ শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বাবার বয়সী মানুষকে যারা শ্রদ্ধা করতে জানে না তাদের কাছে আমরা কি শিক্ষা নেব??? স্যার এদের বিচার হবেই, আপনার চোখের পানি বৃথা যাবে না।’

মো. ইমরান লিখেছেন, ‘ভার্সিটির শিক্ষকদের আচরণ তো দেখছি রাস্তার টোকাই এর মত..বিচার চাই।’

বঙ্গ দা নামে একজন লিখেছেন, ‘দেখা যাচ্ছে না ভাই। বুক ফেটে কান্না আসছে। এমন দৃশ্য দেখতে হবে ভাবিনি।’

জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে পদোন্নতি প্রাপ্ত ৫৭ জন শিক্ষক কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদারের কক্ষে গেলে ইনক্রিমেন্ট পাওয়া নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রক্টর অধ্যাপক খালেদ হোসেন ও ছাত্র পরামর্শক অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম এবং ৪ জন ছাত্রসহ ৬০ জনের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষককে লাঞ্ছিত, ছিনতাই ও অন্যান্য শিক্ষকদের মারধর করার অভিযোগে গত ২২ নভেম্বর থানায় একটি মামলা হয়।

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান জামিল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওই ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. শফিউল আলম কোতয়ালি থানায় একটি পাল্টা এজাহার জমা দিয়েছেন। যা বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) পর্যন্ত রেকর্ড হয়নি। সেখানে আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষকের নাম রয়েছে। এ নিয়ে পদোন্নতি প্রাপ্ত আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বৃহস্পতিবার কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদারের কক্ষে যান। এ সময় ট্রেজারার শিক্ষকদেরকে রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

পরে পদোন্নতি প্রাপ্ত কতিপয় সহকারী শিক্ষকরা রেজিস্ট্রারের কক্ষে যান। সেখানে কথা বলে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. শফিউল আলম লাঞ্চে যাওয়ার কথা বলে রুম থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় পেছন থেকে পদোন্নতি প্রাপ্ত দুইজন সহকারী শিক্ষক রেজিস্ট্রারকে কিলঘুষি মারেন এবং হাত ধরে টেনে নিচে নিয়ে আসেন। পরে পদোন্নতি প্রাপ্ত কতিপয় সহকারী শিক্ষকরা রেজিস্ট্রারকে উদ্ধার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, শনিবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম ক্যাম্পাসে ফিরে আসবেন। বিকেলে এ নিয়ে প্রশাসনের জরুরি মিটিং হতে পারে। সেখানে রেজিস্ট্রারকে লাঞ্ছিতকারী দুই সহকারী অধ্যাপকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এমদাদুল হক মিলন/এফএ/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]