রাকসুর নির্বাচনী আলোচনায় প্রাধান্য পাবে যে বিষয়গুলো

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৫:১২ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি উপাচার্যের এ ঘোষণার ফলে রাকসু সচলে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা। আলোচনায় কোন কোন বিষয় প্রাধান্য পাবে সে বিষয়েও চলছে নানা প্রস্তুতি।

ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুরুত্ব পাবে সদস্য ও প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা শিথিল, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির নির্বাচনে অংশ না নেয়াসহ বেশ কয়েকটি বিষয়।

রাবি প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক মহব্বত হোসেন মিলন বলেন, বাম জোট থেকে আমাদের দুটি চাওয়া থাকবে। একটি হচ্ছে- স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি শিবির যেন নির্বাচনে অংশহগ্রহণ করতে না পারে। অন্যটি হচ্ছে- হলগুলোতে ভোটগ্রহণ না করে বিভাগভিত্তিক ভোটগ্রহণের আয়োজন।

দাবির পক্ষে ছাত্রজোটের এই নেতা বলেন, শিবির রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠন তাই তারা যাতে কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া হলগুলোতে ভোট বাদ দিয়ে বিভাগে ভোটগ্রহণের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই হলগুলো ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের দখলে। সেখানে নির্বাচনের আয়োজন করলে তা ছাত্রলীগের প্রভাবে অনেকে ভোট সুস্থভাবে দিতে পারবেন না।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মোট ৫টি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানান রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ রাহী। ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, আলোচনায় সত্যিকার অর্থে বসবে কি-না সে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভালো বলতে পারবে। যদি তারা আলোচনায় বসেন তাহলে আমরা সদস্য হওয়া ও প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা শিথিল, ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থান, সংবিধান সংশোধন, ছাত্রনামধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এছাড়া অনুষদভিত্তিক নির্বাচনের আয়োজন করার দাবিও রাখবো।

রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমাদের ২৪ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপির মধ্যে রাকসু ছিল অন্যতম। আমরা চাই প্রশাসন নির্বাচনের আয়োজন করুক। তবে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী সংগঠন ছাত্রশিবির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারুক এটা আমরা চাই।

রাকসুর সদস্য হতে পারবেন যারা

রাকসুর সদস্যপদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশে বলা হয়েছে-

১. বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক/ অনাবাসিক শিক্ষার্থী এবং যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর বাৎসরিক ফি প্রদান করেছে তারা এর সদস্য বলে গণ্য হবেন।

২. অনিয়মিত ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর বাৎসরিক ফি প্রদান করলে এর সদস্য হতে পারবেন।

৩. সাবেক ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর বাৎসরিক ফি প্রদান করলে এর সদস্য হতে পারবেন। একজন ছাত্র যিনি পরপর ৪ বছর রাকসুর ফি প্রদান করেছেন তিনি পাস করে চলে গেলেও রাকসুর আজীবন সদস্য বলে গণ্য হবেন।

৪. কার্যনির্বাহী কমিটি চাইলে যেকোনো ব্যক্তিকে সম্মানসূচক আজীবন সদস্যপদ দিতে পারবেন যিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি, জাতীয় স্বার্থ ও মানবতার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন।

সদস্যদের অধিকার:

রাকসুর সকল সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের অধিকার সকল সদস্যের থাকবে। তবে অনিয়মিত এবং সাবেক ছাত্ররা কার্যনির্বাহী সংসদে কোন পদ পাবেন না।

সদস্যপদ বাতিল

কোন ছাত্রের নাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাদ গেলে অথবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি বাতিল করলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে।

রাকসু নির্বাচন

১. রাকসুর সকল সদস্য কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ভোট দিতে এবং নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন।

২. কোনো ছাত্র নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে তার অবশ্যই একজন প্রস্তাবক এবং একজন সমর্থক থাকতে হবে। প্রত্যেক প্রার্থী আলাদা আলাদা মনোনয়নপত্রের দ্বারা মনোনীত হবেন।

৩. সঠিকভাবে পূরণকৃত ফরম মনোনয়নপত্র নির্বাচনের তারিখের আগে রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত সময়ের মধ্যে তার নিকট অবশ্যই জমা দিবে।

৪. রিটার্নিং অফিসার (উপাচার্য কিংবা উপাচার্য নিযুক্ত অন্য কোনো ব্যক্তি) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন।

৫. রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র সমূহ বিশ্লেষণ করে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন।

৬. প্রত্যেক ভোটার ব্যালট পেপারে প্রত্যেক পদের জন্য একটি করে ভোট দিতে পারবেন।

৭. রিটার্নিং অফিসার উপাচার্যের নির্দেশের ভিত্তিতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করবেন।

সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৫৬-৫৭ মেয়াদে। তখন এ সংসদের নাম ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (রাসু)। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক ও নেতৃত্বের গুনাবলি সম্পন্ন তৈরি করার লক্ষে ১৯৬২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নামে যাত্রা শুরু হয়। এ পর্যন্ত রাকসু প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৮৯-৯০ বছর পর্যন্ত ১৪ বার নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সালে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে সামরিক শাসনামলে ১৯৭৫ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বন্ধ ছিল এ সংসদের নির্বাচন। ১৯৮৯ সালের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে দেশে নানা অস্থিরতার অজুহাত তুলে বন্ধ করে দেয়া হয় রাকসু নির্বাচন।

সালমান শাকিল/আরএআর/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :