সেই প্রতীকের জন্য কাঁদলেন শাবি উপাচার্য

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৪ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তাইফুর রহমান প্রতীকের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোয়া মাহফিলে প্রতীকের জন্য সবার কাছে দোয়া চাইতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ।

এ সময় প্রতীকের রুহের মাগফিরাত কামনা করে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমাদের ছাত্রের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। আমি তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তার বোনের সঙ্গেও কথা বলেছি। তাদের সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেছি। সে চলে গেছে, তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আমরা দোয়া করতে পারি।

জিইবি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুল হক প্রধান বলেন, বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে আজ আমরা খুবই মর্মাহত এবং শোকাহত। আমরা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তার জন্য দোয়া করছি। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমাবেদনা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত দান করেন।

দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন- বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মতিউর রহমান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার বিকেলে নগরীর বাগবাড়ি এলাকার একটি মেস থেকে প্রতীকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতীকের আত্মহত্যার জন্য বিভাগের শিক্ষকদের দায়ী করে এক ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন তার বড় বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের শিক্ষক শান্তা তাওহিদা।

ওই শান্তা লিখেছেন, ‘আমার কলিজার টুকরা আদরের একমাত্র ভাই প্রতীক আর নাই। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগকে আমি ছাড়ব না। অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া ছেলেটাকে বিভিন্ন ইস্যু বানিয়ে মাস্টার্সে সুপারভাইজার দেয়া হয়নি। বিভিন্ন কোর্সে নম্বর কম দিয়েছে শিক্ষকরা। আমার ভাইটা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। এটাই তার অপরাধ। ছয় মাস ধরে বিভাগে তিলে তিলে মেরে ফেলছে আমার ভাইকে। আমার কলিজার টুকরা কষ্ট সহ্য না পেরে কাল আত্মহত্যা করেছে। আমার কলিজার টুকরা ছাড়া আমি কীভাবে বাঁচব?

এএম/এমকেএইচ

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :