তোপের মুখে মামলা করতে বললেন ডাকসুর রিটার্নিং কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪১ পিএম, ১১ মার্চ ২০১৯

‘তোমরা এসেছ, লিখিত অভিযোগ দিয়েছ, আমি তোমাদের কথা শুনেছি, ডকুমেন্ট হিসেবে লিখিত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছি। কিন্তু নির্বাচন বাতিল কিংবা পুনঃতফসিলের ঘোষণা করতে পারবো না। সে শক্তি ক্ষমতা আমার নেই। কমিটি আছে, সেখানে বিষয়টি উপস্থাপন করবো। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারব না। যদি তোমরা না মানো তবে পারলে মামলা করতে পারো।’

ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনসহ অধিকাংশ প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করার পর নির্বাচন বাতিল, ভোট জালিয়াতির তদন্ত, ডাকসু নির্বাচনের পুনঃতফসিলের দাবিতে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এস এস মাহফুজুর রহমানের সাথে দেখা করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

পরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন প্রার্থীরা। সাক্ষাৎকালে উপাচার্য কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে লিখিত অভিযোগে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী লিটন নন্দী, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এ আর এম আনিসুর রহমান, একই পদে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজির, স্বতন্ত্র জোটের সহ-সভাপতি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রাশেদ খান স্বাক্ষর করেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদানে বাধা দান, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়া, কারচুপি, প্রার্থীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা, ভোট বাক্স নিয়ে লুকোচুরি, ভোট দেয়ার পরও লাইনে দাঁড়িয়ে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনসহ অধিকাংশ প্রার্থীরাই নির্বাচন বর্জন করেছি।

এ প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করে অবিলম্বে নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে। কোনো ক্রমেই এই প্রহসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করা যাবে না। অতএব নির্বাচনটি বাতিল ও পুনঃতফসিল ঘোষণার আশু পদক্ষেপ নেবেন বলে প্রত্যাশা করছি।

লিখিত অভিযোগ দাখিলের পর অধ্যাপক ড. এস এস মাহফুজুর রহমান বলেন, আমি ফলাফল স্থগিত করতে পারি না। এ জন্য কমিটি আছে, সেখানে সিদ্ধান্ত হবে। তবে যেখানে জালিয়াতি হয়েছে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কুয়েত মৈত্রী হলে সিল মারা ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। প্রভোস্ট পরিবর্তন করে নতুন প্রভোস্টের নের্তৃত্বে নতুন করে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রোকেয়া হলে ঝামেলা হয়েছে, সেখানে সাদা ব্যালট নিয়ে তুলকালাম হলেও জালিয়াতির প্রমাণ মেলেনি। তবুও ভোট বন্ধ থাকা ও ঝামেলার দায় হল প্রশাসনের। এর সবই তদন্ত করা হবে।

বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা এ সময় তাকে ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগ তুলে দালাল বলে আখ্যায়িত করেন। শ্লোগানে শ্লোগানে প্রশ্ন আর অভিযোগের তোপের মুখে পড়েন তিনি। পরে কমিটির সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা লিখে দেন। তিনি বলেন, আর কিছু বলবো না। তোমরা মেনে নিতে না পারলে মামলা করতে পারো।

পরে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এস এস মাহফুজুর রহমানের কক্ষ থেকে বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী লিটন নন্দী।

তিনি বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির ঘোষণার সময় পুনরায় ডাকসু নির্বাচন বাতিল ও পুনঃতফসিলের দাবি জানান তিনি।

জেইউ/আরএস/আরআইপি

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :