আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে চাকসু

ডাকসুর পর এবার আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে চাকসু। ২৮ বছর ধরে নিষ্ক্রিয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) সক্রিয় হতে যাচ্ছে এবার। চাকসু নির্বাচন কিভাবে পরিচালিত হবে সে সম্পর্কিত নীতিমালা প্রণয়ণ কমিটি শিগগিরই গঠন করা হবে।

বুধবার সন্ধ্যায় প্রভোস্ট কমিটি ও প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে উপাচার্যের এক সভায় চাকসু নির্বাচনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর ফলে ২৮ বছর পর বন্ধ্যাত্ব ঘুচতে যাচ্ছে চাকসুর।

জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সভায় উপস্থিত থাকা প্রভোস্ট কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সুলতান আহমেদ ও প্রক্টর অধ্যাপক আলী আজগর চৌধুরী।

অধ্যাপক ড. সুলতান আহমেদ বলেন, চাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে কিভাবে নির্বাচনী নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হবে ও ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। শিগগির এ বিষয়ে কাজ শুরু হবে।

একই কথা বলেন প্রক্টর অধ্যাপক আলী আজগর চৌধুরী। তিনি জানান, চাকসু নির্বাচনের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটি গঠনের পর সাধারণ শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠন, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। খুব দ্রুতই প্রক্রিয়াগুলো শুরু হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে নীতগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। বৃহস্পতিবার নির্বাচনী নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি গঠন করে দেয়া হবে। এরপর পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো শুরু হবে। আর নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে তফসিলও ঘোষণা করা হবে।

এদিকে চাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রদল।

শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। ছাত্র সংগঠনের সহ অবস্থানের বিষয়ে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।

ছাত্র ইউনিয়ন চবি শাখার সভাপতি ধীষণ প্রদীপ চাকমা বলেন, প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে ডাকসু নির্বাচনের ত্রুটিগুলো বিবেচনা করে প্রশাসন কাজ করবে এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত করবে বলে আশা করি।

একইভাবে স্বাগত জানিয়ে ছাত্রদলের চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। তবে সবার আগে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠার পরে এখন পর্যন্ত মোট ৬ বার চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। সর্বশেষ ১৯৯০ সালে নির্বাচনের পর ২৮ বছর ধরে এ নির্বাচন বন্ধ আছে।

আবদুল্লাহ রাকীব/এফএ/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :