বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সাতকাহন...

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ১৭ মে ২০১৯
ছবি- আশরাফুল ইসলাম শিমূল

ছাত্র জীবনে সাবজেক্ট অথবা বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালোবেসে নিজের সব ইচ্ছার বিরুদ্ধে মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে ছেড়ে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য দূরে থাকার নামই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কী রকম কষ্টের যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে অথবা পড়ে তারা হাড়ে হাড়ে টের পায়। যদি সেমিস্টার পদ্ধতি হয় তাহলে তো কথাই নেই। শতশত পেজের অ্যাসাইনমেন্ট, ল্যাব, ক্লাস টেস্ট, প্রেজেন্টেশন, ভাইভা আরো কত কী!

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কেউ ব্যস্ত থাকে পড়াশোনা নিয়ে আবার কেউ ব্যস্ত থাকে বন্ধু বান্ধবী অথবা রাজনীতি নিয়ে। যে পড়াশোনা করে সে সারাদিন ব্যস্ত শিট গোছানো নিয়ে, যে প্রেম করে সে সারাদিন ব্যস্ত থাকে কীভাবে প্রেমিকা অথবা প্রেমিককে খুশি রাখা যায়। কোন রেস্টুরেন্টে ছাড় দিছে, কোন রেস্টুরেন্টে খাবারের স্বাদ ভালো, কোন রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম কম।

আর যে রাজনীতি করে সে সারাদিন ব্যস্ত থাকে মিটিং, মিছিল, প্রোগ্রাম নিয়ে কীভাবে বড় ভাইদের খুশি রাখা যায়, কীভাবে নেতাকে খুশি করা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে হাসি-খুশি আনন্দ ভালোবাসা আবার ভিন্ন রকম। কখনো পুকুর পাড়ে বসে আড্ডা মাস্তি আবার কখনো ক্যাফেটেরিয়াতে। কখনো দোতলা বাসে বসে অবিরাম গেয়ে যাওয়া গান আবার কখনো ডিপার্টমেন্টের বেঞ্চে বসে তুমুল আড্ডা। কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে কিংবা মেসে সহপাঠীদের সঙ্গে কারণে অকারণে হাসিতে মেতে ওঠা আবার কখনো কোনো রেস্টুরেন্টে ধোঁয়া তোলা কফির কাপে চুমুক দিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করা।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে হলে থাকার মজাটা স্কুল, কলেজ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। রাত জেগে কার্ড খেলা, গান গাওয়া, টিভি দেখা, রিডিং রুমে পড়তে বসা হৈ-হুল্লোড় আনলিমিটেড চলতেই থাকে। আর মেস লাইফের জীবন আরো অসাধারণ বুয়া না আসলে নিজেরা রান্না করা, দেরিতে আসলে একজনের মিল অন্য জনে খেয়ে ফেলা।

হল অথবা মেস জীবনে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে যায় মায়ের হাতের সেই মজার খাবারের কথা।

মা অনেক মজা করে রান্না করেন, সময়মতো খাওয়া দাওয়া না করলে বকাঝকা করেন। না খেয়ে ঘুমালে ঘুম থেকে জাগিয়ে খাওয়ান।

campus

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে টিউশনি কারো জন্য শ্বশুড়বাড়ি কারো জন্য শত্রুর বাড়ি।

যদি নিয়মিত নাস্তা দেয়, মাস শেষ হওয়ার পর পরই বেতন দেয় তাহলে তো আনন্দের সীমা থাকে না। আর যদি তার বিপরীত হয় তাহলে তো মেজাজের ভারসাম্য থাকে না।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছুটিগুলোর মধ্যে ঈদুল ফিতরের ছুটি একজন শিক্ষার্থী জীবনে অনেক বড় খুশির। কারণ অন্য কোনো ছুটিতে এতো দিন বন্ধ পাওয়া যায় না। সেমিস্টার শেষ করে ছয় মাস অথবা এক বছর পর ছুটিতে যখন বাড়ির কথা মনে পড়ে তখনই মনে পড়ে যায় মিলন মাহমুদের সেই গানটি-

‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার……
স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার, পথ দেব পাড়ি তোমার……
কাছে যাবো ফিরে বারে বার।
ও ও ও হো……স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার,
সাঁঝ বেলায় সাজ সাজ রব, ছুটে যাবো সেই হাসির টানে
চলে যাবো স্মৃতির কোলে, আমার সব যেখানে।’

অনেকদিন পর বাড়িতে যাওয়ায় দেখা হয় অনেক পুরানো স্কুল, কলেজ বন্ধুদের সঙ্গে। মনে পড়ে যায় অতীতের স্মৃতিগুলো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায় আড্ডা, গল্পতে।

দ্বিগুণ হারে বেড়ে যায় ঈদের আনন্দ।
অন্যদিকে বাবা বাজার থেকে সবচেয়ে বড় মাছ, মুরগিটা নিয়ে আসে। মা সব ধরনের মসলা দিয়ে যেভাবে বেশি স্বাদ হয় সেভাবে রান্না করেন।

বাবা-মা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ওখানে কী খাওয়া দাওয়া করো জানি না বাড়িতে আসছো একটু বেশি করে খাওয়া দাওয়া করো। তখন মনে হয় যেন নিজের বাড়িতে নিজেই মেহমান। সব কিছু আবার ফুরিয়ে যায়, বর্তমান হয়ে যায় অতীত। আর অতীত ধরা দেয় স্মৃতির পাহাড় হয়ে।

এইভাবেই চলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের চক্রাকার জীবন। এখানে জীবন গল্পের ধাঁধাগুলোকে সঙ্গী করে হাসির আড়ালে কান্না চেপে দুঃখের পাশ কাটিয়ে চলে। জীবন এখানে বিচিত্র রকমের। কখনো রঙিন ঘুড়ির মতো নীল আকাশে ওড়াওড়ি, আবার কখনো হাজারো স্বপ্ন বয়ে বেড়ানো একটা বাহন হয়ে তুমুল ছুটে চলা... ।

লেখক: আব্দুর রহিম, নোবিপ্রবি

এএইচ/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :