ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের বাদুড়ঝোলার দিন শেষ কবে

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩১ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ ঢাকা কলেজে পরিবহন সংকট চরমে পৌঁছেছে৷ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরিবহন সংকট নিরসনের জন্য প্রশাসনের কাছে বারবার বাসের দাবি করা হলেও শুধুমাত্র আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রেখেছে কলেজ প্রশাসন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বাসের দাবিতে চলতি বছরের ২০ মার্চ কলেজের শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তখন কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন মোল্লাহ্ বিষয়টি সাত দিনের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ না নেয়া হলে ২৮ মার্চ বাসের দাবিতে ফের মানববন্ধন ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও করে আন্দোলন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে।

পরে তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন মোল্লা শিক্ষার্থীদের সামনে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং প্রয়োজনে বাস ভাড়া করে হলেও পরিবহন সংকট নিরসনের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের এই আশ্বাস পরবর্তীতে আর আলোর মুখ দেখেনি। এরপর কলেজের নতুন অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান সাবেক উপাধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ৷

সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই বাসের দাবিতে আবারও মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় কলেজ প্রশাসনের কাছে নতুন পরিবহন সংযোজনের দাবি জানানো হলেও শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ রেখেছে প্রশাসন।

Dhaka-(3)

ঢাকার কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজারের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে কলেজের আবাসিক হলের শিক্ষার্থী সংখ্যা মাত্র পাঁচ হাজার। বাকি প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীরা থাকেন ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল পরিবহন ব্যবস্থার কারণে পাবলিক বাসে বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাদের। অধিকাংশ পাবলিক বাসে হাফ ভাড়া না নেয়ায় প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের।

প্রতিষ্ঠানটির এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য বাস রয়েছে মাত্র চারটি৷ চারটি বাসের মধ্যে পদ্মনীল মিরপুর রুটে, শঙ্খনীল যাত্রাবাড়ী রুটে, পুষ্পক সাইনবোর্ড রুটে, শঙ্খচিল রামপুরা রুটে প্রতিদিন দুইবার চলাচল করে। দীর্ঘদিন আগের বাস হওয়ায় অধিকাংশই ফিটনেসবিহীন। ফলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়মিত রুটে বাস চলাচল প্রায়ই বন্ধ থাকে৷ এমতাবস্থায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাদুড়ঝোলা হয়ে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বাস বের হলে বাসের ভেতরে জায়গা না থাকায় গেটে ঝুলে গন্তব্যে রওনা দিয়েছেন ৪-৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ঢাকা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, গত একদিন আগেও ধারণক্ষমতার অধিক শিক্ষার্থী বাসে ওঠায় প্রচণ্ড গরমে তিনজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি বললেন, প্রায়ই যাতায়াতের সময় এ রকম দু-এক জন অসুস্থ হয়ে পড়ে।

প্রতিদিন সাভার থেকে পাবলিক বাসে করে ক্যাম্পাসে এসে ক্লাস করেন সুমন আল মামুন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ওই রুটে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাস চলাচল করলেও আমাদের ক্যাম্পাসের কোনো বাস যায় না। আমার মতো অনেক শিক্ষার্থী দূর থেকে এভাবেই ক্যাম্পাসে আসে। আমাদের জন্য বাস আসলে খুব প্রয়োজন। তবে দীর্ঘদিন ধরে বলা হলেও কলেজ প্রশাসন শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবহন সংকটের সমস্যা স্বীকার করে ঢাকা কলেজের পরিবহন ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সদস্য সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার মাহমুদ বলেন, ‘কলেজে বাসের সংখ্যা শিক্ষার্থীদের তুলনায় অপ্রতুল। শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কয়েকটি বাস প্রয়োজন। প্রতিবছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। তাই বাসের সংখ্যা না বাড়ালে সামনে পরিবহন সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। বর্তমানে যে বাস রয়েছে তা চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম।’

Dhaka-(3)

তিনি বলেন, এই সংকট নিরসনের জন্য কলেজ প্রশাসন বিশেষ করে অধ্যক্ষ স্যার নতুন বাস যুক্ত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। আমরা আশা করছি, সম্ভবত চলতি অথবা সামনের মাসে নতুন দুইটি বাস আমাদের পরিবহন পুলে সংযুক্ত হবে।

খুব শিগগিরই সংকটের সমাধান হবে উল্লেখ করে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আন্তরিক এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা খুবই আশাবাদী যে, অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন বাসের ব্যবস্থা হবে।

নাহিদ হাসান/এসআর/এমকেএইচ

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]