আবরার হত্যার বিচার দাবিতে জবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জবি
প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে মানবন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতি।

বুধবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন করেন তারা।

এ সময় শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শত মত শত পথ সৃষ্টি হবে, গবেষণা হবে। ভিন্ন মতাদর্শ হলেই যে তার ওপর হামলা করতে হবে এমন হলে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে ভর্তি হওয়া কোনো শিক্ষার্থীকে তাদের বাবা-মা সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে তুলে পাঠাননি। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তখন তারা নষ্ট হওয়া শুরু করে। এই দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

তারা আরও বলেন, আমরা (শিক্ষকরা) ব্যক্তিস্বার্থে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছি। এই শিক্ষকদের মুখোশ খুলে দিতে হবে। তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য লেখাপড়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শুধু আবরার হত্যার বিচার করলে হবে না। মানুষ হত্যা করা কালচার থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে এবং এই কালচার বন্ধ করতে হবে।

মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদের সঞ্চালনায় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, প্রক্টর মোস্তফা কামালসহ শিক্ষক সমিতির সাবেক নেতা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, বুয়েটের শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থী, সিসিটিভি ফুটেজ ও আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।

সূত্র জানায়, ফাহাদকে জেরা ও পেটানোর সময় হলের ওই কক্ষে অমিত সাহা, মুজতাবা রাফিদ, ইফতি মোশাররফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফায় ফাহাদকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন। তারা সবাই মেহেদী হাসান রাসেলের অনুসারী।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আবরার হত্যার ঘটনায় গতকাল গ্রেফতার ১০ আসামির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী।

ইমরান খান/এমএসএইচ/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com