শিক্ষার্থীদের অভিনয়ে ভেসে উঠল আবরার হত্যার দৃশ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫২ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তার একটি চিত্রনাট্য মঞ্চস্থ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে বুয়েটের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা এ চিত্রনাট্য মঞ্চস্থ করেন। আবরারের সহপাঠীদের বর্ণনার ভিত্তিতে এ চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়।

চিত্রনাট্যের শুরুতে ভারতের সঙ্গে পানি চুক্তি নিয়ে আবরারের প্রতীকী ফেসবুক স্ট্যাটাস তুলে ধরা হয়। এরপর দেখানো হয় পিটিয়ে হত্যার দৃশ্য।

এর আগে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা দেখেছি, কিছুটা কনফিউশন সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আসলে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে নই। দেশের ইতিহাসে ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা ছিল এবং আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজন আছে। কিন্তু আজ বুয়েটে যে নষ্ট ছাত্র রাজনীতি হয়েছে, যার জন্য আসলে আমরা বেঁচে থাকতে পারছি না, যার জন্য হলের প্রতিটি ছেলে-মেয়ে ত্রাসের মধ্যে থাকে। আমাদের এই আন্দোলন তাদের বিরুদ্ধে।’

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের এ আন্দোলন আসলে রাজনীতির বিরুদ্ধে নয়। বরং ক্যাম্পাসে সংঘটিত সংগঠনভিত্তিক যে রাজনীতি বিরাজ করছে, শুধু আমাদের বুয়েট ক্যাম্পাসে তার বিরুদ্ধে এবং সেটিকে বন্ধ করার জন্য।‘

তারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিষ্ঠান যদি চায় সে ক্ষেত্রে এটি (ছাত্র রাজনীতি) বন্ধ করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রের কোনো প্রভাব থাকবে না। শুধু প্রয়োজন প্রশাসনের সৎ সাহস।‘

বুয়েট ভিসি প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা আশা করব এমন একটি বক্তব্যের পরে আর আমাদের প্রশাসন পিছিয়ে থাকবে না। ভিসি স্যার আমাদের থেকে দূরে থাকবেন না। ভিসি স্যার আসবেন এবং আমাদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন।’

অভিযোগ রয়েছে, আবরারকে নির্যাতন করার সময় খবর পেয়ে পুলিশ হলে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন শিক্ষার্থীরা। এ অভিযোগ অস্বীকার করে তারা বলেন, ‘আমরা শুনেছি, বলা হচ্ছে শিক্ষার্থীরা পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিল এবং আলামত আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আলামত আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়নি। ঘটনাটি যখন ঘটে তখন পুলিশের একটি টিম সরাসরি হল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ থানায় নিয়ে যায়। আমাদের শুধু দাবি ছিল হলে যেন সিসিটিভি ফুটেজের একটি কপি রাখা হয়।’

ভিসির সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়ে বলা হয়, ভিসি স্যারের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করা হয়নি। ভিসি স্যার আমাদের অভিভাবক। আমাদের কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় একজন ছেলে হিসেবে, একজন সন্তান হিসেবে, তার ওপর ভিসি স্যারের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা প্রশ্ন করেছি এবং আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো জানিয়েছি।’

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ভিসি স্যার পর্যাপ্ত কথা বলার সুযোগ পাননি- এটা আমরা স্বীকার করি। আমাদের ভিসি স্যারের সঙ্গে কোনো রাগ নেই। স্যার, আপনি আসেন, আমরা আপনার সঙ্গে কথা বলব। ভিসি স্যারের প্রতি আমরা যদি কোনো দুর্ব্যবহার করে থাকি, তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।’

এমএএস/এসআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]