ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করতে চাই : উপাচার্য

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ
ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৯

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করতে চান বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বুয়েটের আবরার হত্যাকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন উপাচার্য।

জাগো নিউজ : সম্প্রতি বুয়েটে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডকে কীভাবে দেখছেন?

উপাচার্য : বুয়েটে যা ঘটেছে, তা একটি বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। খুনিদের শাস্তির দাবিতে সঙ্গত কারণেই সারাদেশে মিছিল-সমাবেশ হচ্ছে। তবে যে দ্রুততার সঙ্গে খুনিদের গ্রেফতার এবং বিচারের আওতায় আনা হয়েছে তা স্বস্তিদায়ক।

জাগো নিউজ : আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা মাদকাসক্ত বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারও কঠোর অবস্থানে। ইবিতে মাদক নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কি?

উপাচার্য : মাদক-সন্ত্রাস এবং দুর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ইবি কাজ করে যাচ্ছে। একদিকে মাদক ব্যবহার প্রতিহত করা, অন্যদিকে মোটিভেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাদকমুক্ত জীবন গড়তে শেখানো। এভাবে সমন্বিত প্রক্রিয়ায় কাজ করতে হবে।

জাগো নিউজ : বুয়েটের ঘটনার পর অনেকেই দাবি করছে শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি ক্যাম্পাসের জন্য বিষফোঁড়া। আপনার কি মত?

উপাচার্য : সম্প্রতি বুয়েটে যা ঘটেছে তা ছাত্র রাজনীতি নয়, নির্ভেজাল সন্ত্রাস। সুতরাং একটি সন্ত্রাসী ঘটনাকে সামনে এনে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার বাধাগ্রস্ত করা বিধেয় নয়। তবে রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করে শুদ্ধাচার চর্চা করতে হবে। সৎ মানুষের ক্ষমতায়ন করতে হবে।

জাগো নিউজ : সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই র‌্যাগিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। ইবিতে র‌্যাগিং বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন কি?

উপাচার্য : র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে ইতোমধ্যে ১১ জন শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেয়া হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার অভয়ারণ্য। র‌্যাগিংকে আইন করে বন্ধ করা উচিত।

জাগো নিউজ : ইবিতে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প চলমান। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো প্রতিবন্ধকতা বা কোনো পক্ষ থেকে বাধা পাচ্ছেন কি?

উপাচার্য : ইজিপি প্রক্রিয়ায় কাজ চলছে। মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের পথে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে। তবে কোনো থ্রেট্স নেই।

জাগো নিউজ : আপনি উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবুও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। দুর্নীতির সম্পূর্ণরূপে বন্ধে আপনার পরিকল্পনা কি?

উপাচার্য : আমি ইবি ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করতে চাই। গত তিন বছরে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে ৩৭ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাত্রায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একাডেমিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সর্বোতভাবে ডিজিটালাইজেশন পদ্ধতি চালু করে দুর্নীতির ক্ষেত্রসমূহ দূর করতে চাই।

Harun-Or-Rashed-1

জাগো নিউজ : সামনেই ভর্তি পরীক্ষা। আগের তুলনায় ভর্তি পরীক্ষার মান অনেকটা স্বচ্ছ হলেও প্রতিবারই ত্রুটি বিচ্যুতি দেখা যাচ্ছে। এসব নিরসনে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কি?

উপাচার্য : ইবির ভর্তি পরীক্ষার গুণগতমান এখন অনেক ভালো। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখন ইবিতে ভর্তির আগ্রহ দেখাচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষায় সম্ভাব্য যে কোনো ক্রটি পরিহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জাগো নিউজ : আপনি উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর ছয় মাসের মধ্যে সেশনজট দূর করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু আপনার মেয়াদের তিন বছর পার হলেও অধিকাংশ বিভাগে ছয় মাস থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সেশনজট রয়েছে। এ বিষয়ে কি বলবেন?

উপাচার্য : অতীতের যে কোনো সময়ের চাইতে ইবিতে এখন (সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হওয়া সত্ত্বেও) সেশন জ্যাম কম। গত তিন বছরে একদিনও অনির্ধারিতভাবে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকেনি। আশা করি শিগগিরই ইবি সম্পূর্ণ সেশন জ্যাম মুক্ত হবে।

জাগো নিউজ : পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ঠেকাতে আপনি বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যে শাস্তি দিলেও সকল বিভাগের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করছে শিক্ষার্থীরা। এই অসদুপায় ঠেকাতে আপনার পরিকল্পনা কি?

উপাচার্য : নকলের বিরুদ্ধে এখানে কঠোর আইন এবং তার প্রয়োগ রয়েছে। তবে সম্পূর্ণভাবে নকল রোধ করতে হলে প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে এবং পরীক্ষার হলে ইনভিজিলেশন আরও কড়াকড়ি করতে হবে।

জাগো নিউজ : একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হলো তার প্রতিমূর্তি। কিন্তু এখনো ইবির ওয়েবসাইট পর্যাপ্ত তথ্য সমৃদ্ধ নয়। ওয়েবসাইটের উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কি?

উপাচার্য : ইবির ওয়েবসাইট এখন আন্তর্জাতিক মানের। আইসিটি সেল সর্বদাই এর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট করার জন্য বিভাগ ও ফ্যাকাল্টিগুলোকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। দরকারি ইনপুট দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।

জাগো নিউজ : এখনো ইবির কোনো উপাচার্যই মেয়াদপূর্ণ করতে পারেননি। আপনি ১২তম উপাচার্য। আপনি মেয়াদপূর্ণ করায় কোনো বাধা পাচ্ছেন কি?

উপাচার্য : মেধা, সততা, নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতা দিয়ে আমি পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে যাচ্ছি। আমি মনের আনন্দে কাজ করি। শ্রম এবং উদ্ভাবনী স্পৃহা আমার পাথেয়। মেয়াদপূর্তির কোনো তাড়না আমি অনুভব করি না। আত্মমর্যাদা নিয়ে যতক্ষণ কাজ করতে পারবো ততক্ষণই করে যাবো।

জাগো নিউজ : আপনার তিন বছরের উপাচার্য সময়কালের সফলতা নিয়ে কিছু বলুন?

উপাচার্য : সাফল্য-ব্যর্থতা নিরূপণের দায় সময়ের ওপরে বর্তানোই ভালো। তবে যে কাজগুলো আমাকে আনন্দ দিয়েছে তার মধ্যে-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ দ্বারে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, ১৬ বছর পর দেশের বৃহত্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান করা, ৯টি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ খোলা সর্বতোভাবে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করা, একাডেমিক অর্ডিন্যান্স আন্তর্জাতিক মানের করা, বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা, ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট অর্জন ও বাস্তবায়ন শুরু করা, লাইব্রেরিতে একুশে কর্ণার, মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার এবং বঙ্গবন্ধু কর্ণার প্রতিষ্ঠা করা, বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর পদ সৃষ্টি করা এবং নিয়োগ প্রদান করা, অফিস সময় পরিবর্তন করা প্রভৃতি।

জাগো নিউজ : ইবি পরিবারের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

উপাচার্য : ইবি পরিবারের সবার কাছে আমার আবেদন। ইবি একটি অনন্ত সম্ভাবনাময় বিশ্ববিদ্যালয়। ইবিকে ভালোবাসুন। ইবি আপানাকে কি দিয়েছে, সে হিসেব পরে করুন। আপনি ইবিকে কি দিচ্ছেন সেই হিসেব আগে করুন।

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/আরএআর/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com