‘জাবি ভিসির কুশপুত্তলিকা দাহ নারীর প্রতি অবমাননার শামিল’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৬:৫৩ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহকে নারীর প্রতি অবমাননা আখ্যা দিয়ে এতে সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানিয়েছে উপাচার্যপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও দুপুর ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনায় প্রতিবাদ জানানো হয়।

মানববন্ধনে নারী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা জানান, উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে গত রোববার তার কুশপুত্তলিকা দাহের মাধ্যমে নারীর প্রতি অবমাননা করা হয়েছে। একজন সম্মানিত নারীকে এভাবে অপমান করা নারী বিদ্বেষী আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলেও জানান তারা।

মানববন্ধনে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সালমা আহ্মেদের সঞ্চালনায় নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, ‘শাড়িতে আগুন লাগানো সব নারীর জন্য বেদনাদায়ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকাটা ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় পুরো নারী জাতিকে অপমানিত করা হয়েছে। আমরা এতে সংশ্লিষ্ট সকলের বিচার দাবি করছি।’

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক সোলনারা আকতার বলেন, ‘নারীর অবয়বে শাড়ি পেঁচিয়ে জনসম্মুখে পুড়িয়ে উল্লাস করা কোনো মতেই ঠিক নয়। এটি নারী সমাজের জন্য পীড়াদায়ক। তাই আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

ju

মানববন্ধন শেষে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বারতা চক্রবর্তী বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে পদচ্যুত করার জন্য কয়েকজন শিক্ষক ও কিছু শিক্ষার্থী এমন কিছু কর্মসূচি অবলম্বন করেছেন যা নারীর জন্য অবমাননাকর। কর্মসূচির নামে বল প্রয়োগ ও নারীকে অসম্মান করা মেনে নেয়া যায় না। একজন নারীর ছবি সংযুক্ত করে শাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটান নজিরবিহীন। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

এ সময় উপাচার্য সমর্থক নারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে কোনো নারীর কুশপুত্তলিকা দাহের মধ্য দিয়ে অন্য নারীদের অসম্মানের কিছু নেই বলে মনে করছেন নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, কোনো নারী বা পুরুষই পদে থেকে খারাপ কাজ করতে পারেন না। এজন্য যদি কেউ তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে চান, তবে তা করতে পারেন। এক্ষেত্রে নারীর বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালনে অন্য নারীদের জন্য অসম্মানের কিছু নেই। এসব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ আলাদা করার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত রোববার তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

ফারুক হোসেন/এমবিআর/জেআইএম

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com