চা-বিড়ি খেতে ৪ হাজার টাকা চাঁদা নিলেন দুই ছাত্রলীগ নেতা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৮:১০ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৯

এক দোকানির কাছ থেকে চার হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে। তবে দুই নেতার দাবি, চাঁদা নয়, চা-বিড়ির খরচ নেয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী বাবু বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের সামনের খাবারের দোকানদার। খাবারে ইটের খোয়া পাওয়ার অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে না জানানোর শর্তে এ টাকা নেন দুই ছাত্রলীগ নেতা। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়া হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্ত এবং ছাত্রলীগ কার্যনির্বাহী সদস্য নাইমুর রহমান দূর্জয়। তারা রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে বাবুর দোকানে খাবারের প্লেটে ইটের খোয়া পায় ছাত্রলীগ নেতা দূর্জয়ের পরিচিত এক ভর্তিচ্ছু ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী সৈকত। খাবারে ইটের খোয়া পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমানের দপ্তরে অভিযোগ দেয়ার হুমকি দিয়ে দূর্জয়কে ডেকে আনেন তারা।

তখন দূর্জয় ফোন করে ডেকে নিয়ে আসেন ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি বৃত্তকে। বৃত্ত এসে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন দোকানি বাবুকে। পরে প্রক্টরকে না জানানোর শর্তে তাদেরকে ১৫০০ টাকা দিতে রাজি হন বাবু।

কিন্তু দূর্জয় এবং বৃত্ত কোনোভাবেই পাঁচ হাজার টাকার নিচে নিতে রাজি হচ্ছিলেন না। এরপর ১৫০০ টাকা থেকে দুই হাজার এবং পরে ২৫০০ টাকা দিতে রাজি হন বাবু। টাকায় মিটমাট না হলে বার বার প্রক্টরের কাছে অভিযোগ দেয়ার ভয় দেখান তারা।

একপর্যায়ে চার হাজার টাকায় মিটমাট হয়। দোকানি বাবু ছাত্রলীগ কর্মী দূর্জয়ের হাতে চার হাজার টাকা দেন। টাকাগুলো সৈকত এবং দূর্জয়ের ভর্তিচ্ছুদের মধ্যে দুই হাজার টাকা করে ভাগ করে দেয়া হয়। সৈকত টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। ঝিনাইদহ থেকে আসা দূর্জয়ের পরিচিত ভর্তিচ্ছুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নাইমুর রহমান দূর্জয় বলেন, আমি বৃত্ত ভাইকে ফোন দিয়ে ডাকলাম। ভাই এসে বাবু ভাইয়ের সঙ্গে কথা বললেন। বাবু ভাই বললেন আমি এদের চা-বিড়ির খরচ দিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন ভর্তি পরীক্ষা চলছিল। তারা প্রক্টরের কাছে গেলেও প্রক্টরকে পেতো না। ঝামেলা করার চেয়ে এভাবেই শেষ করে দেই ভাবলাম। তবে খাবারে যে ইটের খোয়া পাওয়ার জন্য টাকা নিয়েছেন সে খোয়া আমি দেখিনি।

জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি বৃত্ত বলেন, আমি কোনো টাকা নিইনি। বাবুর দোকানে এ ধরনের খাবারের সমস্যা কথা প্রায়ই শোনা যায়, আপনারাও জানেন। আপনারা সাংবাদিকরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেন না কেন? তাদের মধ্যে সমস্যা হচ্ছিল আমি গিয়ে মিটমাট করে দিয়েছি। আমি সেখানে বিন্দুমাত্র দাঁড়াইনি। আমার পা ধরার মতো অবস্থা করেছে বাবু। কিন্তু আমি এতে নিজেকে জড়াতে চাইনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। দোকানদারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। কারও কাছ থেকে যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকে তাহলে আমার কাছে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেব।

এর আগে ইমরান হোসেন নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্তসহ চারজনের বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসায়ী ও ছাত্রদল কর্মী আখ্যা দিয়ে তার থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এ ঘটনা ঘটেছিল।

এএম/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com