ইডেনে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ : দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

রাজধানীর ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন ছাত্রলীগ নেত্রীরা।

মূল ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইডেন কলেজের বঙ্গমাতা হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রথমে ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আঞ্জুমান আরা অণুর অনুসারী ছাত্রলীগ সদস্য তামান্নাসহ কয়েকজন পাঁচতলা থেকে দোতলায় আসেন রূপার অনুসারী নাবিলা ও তার বোনকে হল থেকে বের করে দেয়ার জন্য। পরে মাহবুবা নাসরিন রূপার অনুসারীরা অণুর অনুসারীদের আক্রমণ করে।

একপর্যায়ে অণুর অনুসারী ছাত্রলীগের সদস্য তামান্নার হাতে কোপ লাগে। এরপর রূপার অনুসারী নাবিলার বোনকে কোপ দেয় অণুর অনুসারীরা। নাবিলার বোন হলের বহিরাগত। তার ঘাড়ে কোপ লাগে। পরে অণুর অনুসারী আর রূপার অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুবা নাসরিন রূপা বলেন, ‘অণুর নেতৃত্বে মেয়েরা চায় যেন আমরা ক্যাম্পাসে না থাকি। ও (অণু) একা ক্যাম্পাসে থাকবে। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদ নিয়েছে সে। ও একমাত্র মেয়ে যে বিসিএস, বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করেছে। ও কিন্তু আসামি। ও একমাত্র মেয়ে যে আমাদের ক্যাম্পাসের মেয়েদের বাইরে নেয়। ও একমাত্র মেয়ে যে রাত ১২টার পরে মদ খেয়ে হলে ঢোকে এবং ইয়াবা ব্যবসা করে।’

তিনি বলেন, আমরা এ নিয়ে আগেও প্রতিবাদ করেছি। আমাদের আহ্বায়ককে (ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাসলিমা আক্তার) এ ব্যাপারে জানিয়েছি। এসব করতে নিষেধ করেছি। এগুলো বলার পরও (অণু) পাঁচ-ছয়দিন ধরে রাত ১২টার পর মিটিং করে, আমাকে নাকি হল থেকে বের করে দেবে। এরপর আমি বলেছি আমাকে হল থেকে বের করা লাগবে না আমি তো এমনিতেই হলে থাকি না। উপজেলার কাজে মাঝে মধ্যে ঢাকায় এসে দু-একদিন থাকি। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে এসব বিষয়ে জানানো হয়েছে।

রূপা আরও অভিযোগ করে বলেন, আমাকে মারধর করে রুম থেকে বের করে দিয়েছে এটা ম্যাডামরাসহ সবাই দেখেছে ৷ তারপর ও (অণু) রুম থেকে বের হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাহবুবা নাসরিন রূপা বর্তমানে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান।

রূপার এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আঞ্জুমান আরা অণু বলেন, ‘আমি ঘটনার সময় ক্যাম্পাসে ছিলাম না। এটার প্রমাণ চাইলে অধ্যক্ষ ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। যখন সেন্ট্রাল (ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি) থেকে আমাকে বলা হয়, তখন আমি ক্যাম্পাসে এসে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি।’

ঘটনার সঙ্গে জড়িত কারও সঙ্গেই তার সম্পর্ক নেই দাবি করে তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন। এগুলো বললে তার প্রমাণ দিক।

মাদকাসক্তের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তিন মাস পরপর রক্ত দান করি। আপনারা চাইলে আমার মেডিকেল রিপোর্ট দেখতে পারেন।

ক্যাম্পাসে নিজের কোনো আধিপত্য নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমি বিবাহিত কিনা সেটা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারির কাছে জিজ্ঞেস করেন।

আপনি বিবাহিত কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বিবাহিত’। তবে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রকাশ হলে মামলার হুমকি দেন তিনি।

এসব বিষয়ে জানতে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বিএ/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com