‘টাকা ছাড় না হলেও কাজ হচ্ছে, দুর্নীতিও সম্ভব’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জাবি
প্রকাশিত: ০৭:৫৫ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলন নিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

তারা বলছেন, অর্থ যদি ছাড় না হয়, তাহলে কাজ চলছে কীভাবে? টাকা ছাড়ের সঙ্গে দুর্নীতির সম্পর্ক নেই, দুর্নীতির সম্পর্ক ঠিকাদার ও প্রশাসনের সঙ্গে। নিয়ম হলো, সরকারি টেন্ডারের কাজ শেষ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান টাকা পাবে। সুতরাং দুর্নীতির জন্য টাকা ছাড়ের প্রয়োজন হয় না।

শনিবার বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পটচিত্র প্রদর্শন কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারী শিক্ষক খন্দকার হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

movement

নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ জমা দিতে পারেনি, শিক্ষা উপমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে খন্দকার হাসান মাহমুদ বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের কথা ছিল ৮ তারিখ অভিযোগপত্র জমা দেয়ার। আমরা কষ্ট করে হলেও সেটি নির্দিষ্ট সময়ে জমা দিয়েছি। হয়তো শিক্ষা উপমন্ত্রীর কাছে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।’

তদন্ত চলাকালীন উপাচার্যের পদত্যাগ চাইবেন কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যখন কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত হয় তখন তাকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জাবির শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অভিযোগ তদন্ত করার সময়ও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তাই তদন্ত চলাকালে উপাচার্যকেও অব্যাহতি দিতে হবে। না হলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েই যাবে।’

আন্দোলনে শিক্ষকদের কম উপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে উপাচার্যের পদত্যাগসহ ২০টি দাবি নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছি। একাডেমিক, সিনেট ও সিন্ডিকেটের নির্বাচনেও আমরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছি। সুতরাং আমাদের দাবিতে অধিকাংশ শিক্ষকের সমর্থন রয়েছে। উপাচার্য ত্রাসের মাধ্যমে ঠুনকো অজুহাতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে নিজের দল ভারী করেছেন। কিন্তু সমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উপাচার্য গোপন ভোটের ব্যবস্থা করে দেখুন, অধিকাংশ শিক্ষকই তার বিপক্ষে অবস্থান নেবেন।’

movement

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এখন কোনো আন্দোলন চলতে পারে না। এটা আইনের লঙ্ঘন। যেহেতু সরকার এখানে সরাসরি অনুসন্ধান করছে। তাই সরকারের প্রতি সবার আস্থা রেখে আন্দোলন প্রত্যাহার করে ঘরে ফেরা উচিত।

আন্দোলনকারীদের দেয়া বক্তব্যের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেরা বিনিয়োগ করে কাজ শেষে বিল করার পর সরকার টাকা ছাড় করে। সুতরাং এখন যে কাজ হচ্ছে তা ঠিকাদারের নিজস্ব অর্থায়নে। এখানে প্রকল্পের মূল বাজেটের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।’

প্রক্টর আরও বলেন, সরকার উদ্যোগ নিয়ে সবাইকে একত্রিত করেছেন। কিছুসংখ্যক শিক্ষক এতে সাড়া না দিয়ে বিরোধিতা করছেন। নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনো ভবিষ্যৎ বাণী করতে চাই না। নির্বাচন এলে সেটা দেখা যাবে।

ফারুক হোসেন/এমবিআর/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com