ফের নিজেদের কর্মীকে পেটাল ইডেন ছাত্রলীগের নেত্রীরা

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
ক্যাম্পাস প্রতিবেদক ক্যাম্পাস প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৯ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৯
হামলার শিকার সুস্মিতা

রাজধানী ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের শহীদ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন যুগ্ম আহ্বায়ক মিলে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে৷

জানা গেছে, হামলায় আহত ওই ছাত্রলীগ কর্মী সুস্মিতা বাড়ৈর জরায়ুর টিউমারের অপারেশনের স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে৷ পরে আহত অবস্থায় তাকে রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ কয়েকঘণ্টা চিকিৎসা নেয়ার পর সেন্ট্রাল হসপিটালে চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় সে এখন তার এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছেন৷ সুস্মিতা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের অনুসারী ও ছাত্রলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন৷

জানা যায়, সোমবার সকালে হলের সিটবাণিজ্য ও সিট নিয়ন্ত্রণ করা নিয়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন যুগ্ম আহ্বায়ক মিলে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা ছাত্রীনিবাসের ছাত্রলীগের সদস্য সুস্মিতা বাড়ৈর ওপর হামলা করেন। এ সময় তাকে বেধড়ক পেটানো হয়৷ হামলায় সে পেটে (অপারেশনের স্থানে) ও ঘাড়ের মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।

সূত্র জানায়, ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জান্নাত আরা জান্নাত, রিভা আক্তার, পাপিয়া আক্তার প্রিয়া, পাপিয়া রায়, বীথি আক্তার, জারিন পূর্ণি ও ইতি আক্তারসহ আরও কয়েকজন মিলে সুস্মিতাকে মারধর করেন।

মারধরের শিকার সুস্মিতা বাড়ৈ ইডেন কলেজের ২০১৪-১৫ সেশনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গমাতা হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে কলেজে ছাত্রলীগের সদস্যরা চেষ্টা করছেন হলের পলিটিক্যাল রুম তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে। অন্যদিকে যুগ্ম আহ্বায়করা চেষ্টা করছেন তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে। প্রথম বর্ষে যারা ভর্তি হবেন, সেই শিক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে হলে তুলে সিটবাণিজ্য কেন্দ্র করে এসব সংঘর্ষ হচ্ছে। হলে সিটবাণিজ্যের পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়করা। সিট বাণিজ্য থেকে যুগ্ম-আহ্বায়কদের প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয়ের অভিযোগ রয়েছে৷

সূত্র আরও জানায়, ইডেন কলেজের সব হল মিলিয়ে প্রায় দুই হাজারের মত অবৈধ শিক্ষার্থী টাকার বিনিময়ে হলে থাকেন৷

এ ঘটনার পর ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য দুপুর দুইটার দিকে ইডেন কলেজে এসে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বলেও জানা গেছে৷

susmita

এর আগে গত শনিবার সিটসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জের ধরে সাবিকুন্নাহার তামান্না নামে এক ছাত্রলীগ সদস্যকে বটি দিয়ে কোপান ছাত্রলীগের আরেককর্মী।

এ বিষয়ে ইডেন কলেজ শাখার ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বিথী আক্তার বলেন, এ রকম কোন ঘটনা ঘটেনি। আপনি প্রশাসনের কাছে জানতে পারেন৷ একটা কুচক্রী মহল ছাত্রলীগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এসব রটাচ্ছে৷

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক জান্নাত আরা জান্নাত বলেন, সুস্মিতা লিগ্যালভাবে হলে থাকে না৷ ও ম্যামদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করে৷ ক্যান্টিনের মামাদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করে৷

হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব কথার কোন ভিত্তি নেই৷ এগুলো সব বানোয়াট।

এ ব্যাপারে জানতে শহীদ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের তত্ত্বাবধায়ক সহযোগী অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগমকে ফোন করলে ‘জরুরি মিটিংয়ে আছি, পরে কথা বলছি’ বলে ফোন কেটে দেন৷ পরে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি৷

এ বিষয়ে জানতে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. শামসুন্নাহারকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নাহিদ হাসান/জেএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]