১১ হাজার টাকা হলেই বেরোবিতে ভর্তি হতে পারবেন মনিন্দ্র

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বেরোবি
প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৯

শত বাধা টপকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অদম্য মেধাবী মনিন্দ্র নাথ রায় এবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে তার ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মনিন্দ্রের বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মসরদৈলজোর গ্রামে।

তার বাবা হেমন্ত কুমার রায় রিকশাচালক। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এক ভাই ও এক বোন তারা। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই। জায়গাজমি বলতে শুধু বাড়ির পাঁচ শতক ভিটেমাটি। মা-বাবার সামান্য আয় আর মনিন্দ্রের টিউশন ফি দিয়েই চলতো পরিবারের ভরণ-পোষণসহ তার পড়াশোনা।

দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া এ ছেলেটি এবার (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) বেরোবির ভর্তি পরীক্ষায় বি ইউনিটের প্রথম শিফটে (বিজ্ঞান) উত্তীর্ণ হয়েছেন। তার মেধাক্রম ৩৩। ভর্তির শেষ তারিখ আগামী ২-৩ ডিসেম্বর। ভর্তির জন্য এখন তার প্রয়োজন ১১ হাজার টাকা। কিন্তু মনিন্দ্রের পরিবারের পক্ষে এতো টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়।

BRUR-Mahinda

মনিন্দ্র দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই ছোটবেলা থেকে পড়াশোনা করছেন। তিনি গ্রামের মসরদৈলজোর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং লালমনিরহাট সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞানে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। তার পড়াশোনার আগ্রহ দেখে শিক্ষকরা জামা-কাপড় কিনে দিতেন তাকে।

মনিন্দ্র বলেন, দরিদ্র মা-বাবার পক্ষে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সামর্থ্য নেই। পড়াশোনার খরচ চালানো পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এখনও সম্ভব নয়। তাই উচ্চ শিক্ষার যে স্বপ্ন দেখতাম তা অর্থের অভাবে অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

মনিন্দ্রের বাবা হেমন্ত কুমার রায় বলেন, ‘নিজে না খেয়ে বেটারে স্কুল কলেজ পড়াইছং। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাইছে। কিন্তু হাতে কোনো ট্যাকা-পয়সা নাই। এজন্য মুই চিন্তা করি কুল পাংনা। কি করিম এলা। তোমরা আমাদের সাহায্য কর। যাতে মোর বেটা পড়ালেখা চালাই যেতে পারে।’

মহিন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে ০১৭৭৪০৮৭২৯৪ নম্বরে।

সজীব হোসাইন/এমএএস/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com