মাছের বিস্কুট ও চানাচুর উদ্ভাবন করলেন শেকৃবির গবেষকরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৭:৫৭ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষকরা পাঙাশ ও সিলভার কার্প মাছ প্রক্রিয়াজাত করে বিস্কুট ও চানাচুর উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, আকুয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের একদল গবেষক অনুষদীয় অর্থায়নে কয়েক মাস ধরে এ বিষয়ে গবেষণা চালান। তাদের দাবি, বাংলাদেশে তারাই প্রথম এ উদ্ভাবনে সফলতা অর্জন করলেন।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গবেষকরা এ উদ্ভাবন সম্পর্কে জানান।

গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হার্ভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাসুদ রানা। তত্ত্বাবধান করেন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. কাজী আহসান হাবীব। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আকুয়াকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এ এম সাহাবউদ্দিন এবং ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হার্ভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মহিব্বুল্লাহ।

SAU-Fish-2

গবেষক দল জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রতি বছর লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত মাছ উৎপাদিত হচ্ছে। পাঙাশ ও সিলভার কার্প মাছের উৎপাদনের হার বেশি। ভোক্তাদের চাহিদা ও বাজারদর দিন দিন কমতে থাকায় চাষিরা পাঙাশ ও সিলভার কার্প মাছ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। মাছ দুটির প্রতি ভোক্তাদের চাহিদা বৃদ্ধিসহ মূল্য সংযোজন (ভ্যালু অ্যাডেড) পণ্য উৎপাদন করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে মাছ দুটি চাষি পর্যায়ে পাওয়া যাবে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে পাঙাশ ও সিলভার কার্প মাছের প্রতি ভোক্তাদের চাহিদা ও চাষিদের আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কম মূল্যের মাছগুলো প্রক্রিয়াজাত করে সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ বিস্কুট এবং চানাচুর উদ্ভাবন করা হয়েছে। এই খাদ্য মানুষের দেহের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন ও মিনারেল সরবরাহ করবে।

তারা বলেন, উদ্ভাবিত খাদ্য দুটি যেকোনো সময় খাবার উপযোগী মোড়কজাত পণ্য হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন সম্ভব। এতে চাষি পর্যায়ে পাঙাশ ও সিলভার কার্প উৎপাদনে আগ্রহ বাড়বে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং প্রাণীজ আমিষসমৃদ্ধ এই পণ্যগুলো ছোট ছেলেমেয়েদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং গর্ভবতী নারীদের পুষ্টির সংকুলানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

SAU-Fish-2

প্রাথমিকভাবে গবেষণায় দেখা গেছে, মাছের বিস্কুট ও চানাচুরে ৪০-৫০ শতাংশ আমিষ, ২০-৩০ শতাংশ চর্বি, ২০-২৫ শতাংশ শর্করা, ১০-১৫ শতাংশ মিনারেল এবং ১০-১২ শতাংশ ফাইবার বিদ্যমান।

গবেষকদের উদ্ভাবিত বিস্কুট ও চানাচুর শেকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ এবং ফিশারিজ, আকুয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. কাজী আহসান হাবীবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মো. রাকিব খান/এসআর/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com