ছেলের সমাবর্তনে মনের আনন্দে ঘুরছেন নেপালি দম্পতি

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৪০ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

দুপুর সাড়ে ১২টা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-রাজু ভাস্কর্য চত্বরে সমাবর্তন গাউন ও ক্যাপ পরিহিত ঢাবি স্নাতকদের হইচই ও আনন্দ-উৎসবে মুখরিত থাকতে দেখা যায়। আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিতব্য ৫২তম সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নানা রঙের পোশাক পরে রাজু ভাস্কর্যসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে গল্পগুজব, খাওয়া-দাওয়া ও ফটোসেশন করছিলেন। তরুণ-তরুণীদের কারও কারও সঙ্গে তাদের বাবা-মা, ভাই-বোনদেরও ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।

তাদের মধ্যে এক বৃদ্ধ দম্পতিকে মনের আনন্দে মোবাইলফোনে নানা ভঙ্গিতে ছবি তুলতে দেখা যায়। তাদের সঙ্গে সমাবর্তন গাউন কিংবা ক্যাপ পরিহিত কেউই নেই। তারা কথাও বলছেন নিচুস্বরে নিজেদের মধ্যে।

কৌতূহলবশত এ প্রতিবেদক তাদের কাছে প্রথমে, কী জন্য এসেছেন? বললে তারা ইংরেজিতে জানান, তারা বাংলা বলতে পারেন না, কারণ তারা নেপালি। তাদের ছেলে ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক করে বর্তমানে একই বিষয়ে মাস্টার্স করছে। ছেলের সমাবর্তনে যোগ দিতে গত বৃহস্পতিবার ভারতের শিলিগুড়ি হয়ে ঢাকায় এসেছেন। উঠেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল হোস্টেলে।

হাজি মো. তাহির হোসেন বিক্রান নামের ওই ভদ্রলোক নেপালের স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরিজীবন শেষ করে বর্তমানে অবসরযাপন করছেন। বড় ছেলে আশফাক বিক্রান থাইল্যান্ডের মাহিদল ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ইন পাবলিক হেলথে (এমপিএইচ) পড়াশোনা শেষ করেছেন। ছোট ছেলে ইশতিয়াক বিক্রান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

du

তিনি জানান, প্রথমবারের মতো ঢাকায় বেড়াতে এসে তিনি খুব খুশি ও অভিভূত। এখানকার মুসলিম সংস্কৃতি ও হালাল খাওয়া-দাওয়া খুব ভালো লেগেছে তাদের।

কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে বড় ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে খুব যন্ত্রণা পোহাতে হয়েছে। কিন্তু এখানে নিশ্চিন্তে সবকিছু খেতে পারছি।

তিনি জানান, ছেলের সঙ্গে গিয়ে তারা গরুর তেহারি খেয়েছেন। খেতে খুব মজা লেগেছে। ঢাবি ইন্টারন্যাশনাল হোস্টেলের সকালের নাস্তায় পরোটা, ভাজি, ডাল ও ফলফলাদি খেয়েছেন তৃপ্তিসহকারে। আগামীকাল সমাবর্তনের রিহার্সাল দিতে ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছি।

তাই তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ক্যাম্পাসের আশপাশ ঘুরে দেখছেন। বাংলাদেশে আসতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত।

এমইউ/বিএ/জেআইএম

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]