মেধাবীদের স্বর্ণপদক দেবে রাবির এসএম হল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাবি
প্রকাশিত: ১১:১৪ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

গেল বছরের নভেম্বরে দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথম দিন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে হলের দায়িত্ব পেয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান ও তার প্রশাসন। দায়িত্ব গ্রহণের কয়েকদিন পার না হতেই শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারছে না। নেই লেখাপড়ার জন্য জন্য রিডিং রুম, ওয়াইফাই সমস্যা, খাবারের মান খারাপ, একটি নির্দিষ্ট হল কত ভালো এবং কত সুন্দরভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে, আমাদের হলটি কেন হচ্ছে না। এমন বেশ কয়েকটি অভিযোগ নিয়ে দৌড়ে এসেছিলেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

কিছু হলে যেখানে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলা নিয়ে সংশয়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সে রকম একটি অবস্থান থেকে আলো ফিরেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হলে। শিক্ষার্থী পড়ালেখার সুযোগ ও পরিবেশ দুটিই বাড়িয়েছে রিডিং রুম, ইন্টারনেট সেবা দিতে লাগানো হয়েছে ১২টি রেডিও ওয়াইফাই, অতিথি কক্ষটাও সজ্জিত করা হয়েছে সুন্দরভাবে। প্রায় ৩০ বছর ধরে বন্ধ থাকা লাইব্রেরিটিও চালু হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে হল অডিটোরিয়ামের সংস্কার কাজ। বের করা হচ্ছে সৃজনী নামের হল সাময়িকীও। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের থেকে লেখা গ্রহণ করা হয়েছে। আর এর মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম হল হিসেবে সেরা শিক্ষার্থীদের স্বর্ণপদক দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আরিফুর রহমান।

হলের পরিবর্তনে খুশি শিক্ষার্থীরাও। শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, হল প্রাধ্যক্ষ আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে ডাইনিংয়ের খাবার পর্যবেক্ষণ করছেন প্রতিনিয়ত। রুমে রুমে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়ার কাজটিও শুরু করেছেন। নিরাপত্তা জোরদারে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনাসহ হল পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও সচেতন রয়েছে সবাই।

মার্কেটিং বিভাগ ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রবিউল আলম বলেন, হলে যখন প্রথম উঠি তখন পড়ার জন্য রিডিং রুম ছিল না। রুমেও পড়া হতো না। তবে এখন ৪০ জনের মতো পড়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাইরের হল থেকেও শিক্ষার্থীরা আসছেন পড়ার জন্য। যারা এখানে পড়ছেন তাদের অনেকেই এই সময়টা বাইরে ব্যয় করতেন।

jagonews24

তৌহিদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, হলের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর একটি অডিটোরিয়াম করা হচ্ছে। অন্য কোনো হলে এ রকম একটা অডিটোরিয়াম পাওয়া যাবে না। সাংস্কৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এটি অবশ্যই ভূমিকা পালন করবে।

আইন বিভাগের মাস্টার্সের এবং হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাহবুব উল ইসলাম বলেন, পূর্বের চেয়ে হল প্রাধ্যক্ষসহ আবাসিক শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেকোনো সমস্যার আশু সমাধানের কথা নির্ভয়ে তাদের সাথে আলোচনা করতে পারছেন।

এদিকে অন্যান্য হলগুলোতে যখন সিট বন্টনে বেগ পেতে হচ্ছে হল প্রশাসনের সেই অবস্থাতেই অভিযোগহীনভাবেই সিট বন্টন করছে বর্তমান প্রশাসন। এ নিয়েও খুশি শিক্ষার্থীরা।

অনেকেই বলছেন, এই পরিবর্তনটা গেল বছরের ৮ নভেম্বরের পরের। যারা এক বছর আগে হল থেকে চলে গেছেন তাদের কাছে হলের বর্তমান পরিবেশ অচেনা লাগতেই পারে। হলের পুরো পরিবেশ পাল্টে গেছে বলে জানাচ্ছেন তারা। একজন রুচিশীল প্রাধ্যক্ষ পেয়েছে শাহ মখদুম হল বলে দাবি তাদের।

জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান বলেন, লোকবল খুব কম, তবুও চেষ্টা করেছি আমরা। যতটুকু পেরেছি তার সবটুকুই শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় সম্ভব হয়েছে। আর সবচেয়ে সম্ভব হয়েছে এজন্য যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আমাকে সহায়তা করেছেন। যখন যে ফাইল নিয়ে গিয়েছি কোনো ফাইল ফিরিয়ে দেননি তিনি।

মসজিদ সংস্কার, ক্রীড়া কক্ষ সংস্কার, ক্রীড়া সরঞ্জাম ক্রয়সহ আমাদের আরও কিছু পরিকল্পনা আছে। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের থেকে সহযোগিতা পাব।

সালমান শাকিল/এমআরএম

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]