খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতিবাদ

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২০

‘উপাচার্যের যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে উত্তাল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়’ শিরোনামে গত ৮ জানুয়ারি জাগো নিউজে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান।

অ্যাডভোকেট মো. আইয়ুব আলী শেখ কর্তৃক পাঠানো লিগ্যাল নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, “প্রকাশিত সংবাদটি আমার মক্কেলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত সংবাদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন ছাত্রী (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক) এর ০৬/০১/২০২০ খ্রি. তারিখে তার ফেসবুকের একটি পোস্টের বরাত দেয়া হয়েছে। উক্ত ফেসবুক পোস্টে তিনি কোনো প্রকার যৌন হয়রানি শব্দটি ব্যবহার করেননি। বরং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির নিয়োগ বোর্ডে ভিসি মহোদয় আপত্তিকর প্রশ্ন করায় তিনি বিব্রত হয়েছেন মর্মে উল্লেখ করেন। তবে কোন তারিখে তার নিয়োগ বোর্ড হয়েছিল বা কেন তিনি তারপরই বিষয়টি প্রকাশ করেননি তা তিনি পোস্টে উল্লেখ করেননি। একজন চাকরিপ্রার্থী চাকরিপ্রাপ্তিতে বঞ্চিত হয়ে অথবা অন্য কারো দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ জাতীয় মন্তব্য করতে পারেন। কিন্তু একজন সাংবাদিক হয়ে ফেসবুক পোস্টের তথ্য অনুসন্ধান না করে বা এর সত্যতা যাচাই-বাছাই না করে বা এ বিষয়ে আমার মক্কেলের বক্তব্য গ্রহণ না করে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ‘উপাচার্যের যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে উত্তাল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা এবং সংবাদের মধ্যে ‘নিয়োগ বোর্ডে উপাচার্য (ভিসি) তাকে যেভাবে যৌন হয়রানি করেছিলেন তার বিবরণ’ কথাটি ব্যবহার করা চরম অসম্মানজনক। একজন মাননীয় উপাচার্য সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্ত কাহিনি সাজিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাসহ স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে উস্কনিস্বরূপ এ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে দৃঢ় বিশ্বাস। ফলে একজন সৎ, নিষ্ঠাবান মাননীয় উপাচার্যের ব্যক্তিগত সুনাম তথা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।”

প্রতিবেদকের বক্তব্য

যথাযথ নিয়ম মেনেই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য মহোদয়ের বক্তব্যও নেয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা এমনও বলেছেন, ‘৩০ বছর পর হলেও এটা নিয়ে আমি মুখ খুলতাম। কারণ ওই নিয়োগ বোর্ড থেকে বের হয়ে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আছি। ভিসি আমাকে মানসিকভাবে নিপীড়ন করেছেন। তিনি আমার কাছে জানতে চেয়েছেন, আমি হাফপ্যান্ট পরি কি-না? এটা এক কথায় মানসিক ধর্ষণ।’

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালের ১৪ মে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন (বর্তমানে প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি ঐতিহাসিক রায় দেন। রায়ে আদালত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেন। পাশাপাশি ওই নীতিমালার ৪ ধারায় যৌন নিপীড়নকে সংজ্ঞায়িত করে আদালত বলেন, ‘শারীরিক ও মানসিক যেকোনো ধরনের নির্যাতন যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। ই-মেইল, মুঠোবার্তা (এসএমএস), পর্নোগ্রাফি, টেলিফোনে বিড়ম্বনা, যেকোনো ধরনের চিত্র, অশালীন উক্তিসহ কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে সুন্দরী বলাও যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। যেহেতু শুধু কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে না, তাই রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অশালীন উক্তি, কটূক্তি করা কিংবা কারও দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকানো ইত্যাদি যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য হবে।’

হাইকোর্টের ওই রায় অনুযায়ী, কোনো নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, যেকোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক স্থাপ, দেয়াল লিখন, অশালীন চিত্র ও আপত্তিকর কোনো ধরনের কিছু করা যৌন হয়রানির মধ্যে পড়ে।

সুতরাং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভুক্তভোগীর অভিযোগ যৌন হয়রানির মধ্যে পড়ে। এখানে কোনো ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজা অবান্তর।

এমএআর/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]