বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর গুরুতর অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৮:৫৬ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন সন্ধ্যাকালীন কোর্সের এক শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. আলী রেজওয়ান তালুকদার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান।

এ বিষয়ে গতকাল বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ইংরেজি বিভাগের অধীনে সন্ধ্যাকালীন স্নাতকোত্তর (ইএমএ) কোর্সের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এবং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন হয়রানির শিকার শিক্ষার্থী।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১৩ জানুয়ারি প্রথম ট্রাইমিস্টারের একটি কোর্সের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শুরুর আগে মোবাইল সামনে রেখে এসে নিজের আসনে বসে পরীক্ষা দেন ওই শিক্ষার্থী। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা শেষে হল থেকে বের হয়ে তিনি দেখতে পান তার মোবাইলের সিম ও মেমোরি কার্ড অদল-বদল করা হয়েছে। ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গে বিভাগীয় প্রধান আলী রেজওয়ান তালুকদারকে ফোন করেন শিক্ষার্থী। সেই সঙ্গে তিনি জানতে চান এটি কি করে হলো।

শিক্ষককে ফোন করার কারণ হিসেবে অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন, কোর্সের ক্লাস শুরুর সময় ওই শিক্ষক আমাকে সিআর বানিয়েছেন এবং ফোন নম্বর নিয়েছেন। বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ওই শিক্ষক বিভিন্ন সময় নানা কারণে আমাকে রুমে ডাকতেন, নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার প্রলোভনে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই সঙ্গে কুমিল্লা শহরে নিজের বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এসব বিষয়ের সব প্রমাণ আমার মোবাইলের অদল-বদল করা মেমোরিতে ছিল।

ওই শিক্ষার্থী অভিযোগপত্রে লিখেছেন, ‘তিনি আমাকে সরাসরি অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন ইএমএ কোর্স নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। আমি তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ভয়ে কিংবা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে এই কাজ করেছেন। ওই দিন পরীক্ষা চলাকালীন ৩০-৩৫ মিনিটের জন্য বাইরে ছিলেন ওই শিক্ষক। আমার মোবাইলটি পুরো নষ্ট করে ফেলা হয়েছে, যাতে করে আর কোনো তথ্য না পাওয়া যায়।’

জানতে চাইলে ওই ছাত্রী বলেন, ‘আমি আমার অভিযোগপত্রে যা লিখেছি এর বাইরে বেশি কিছু বলার নেই। আমার কোর্সের পড়াশোনা চালানোর সুবিধার্থে প্রথম প্রথম স্যারের কথায় কম বেশি সাড়া দিয়েছি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তিনি আমাকে কুপ্রস্তাব দেয়া শুরু করেন তখন থেকে আমি যোগাযোগ বন্ধ করে দিই। আমার মোবাইলে যেসব প্রমাণ ছিল সেগুলো নষ্ট করার জন্য তিনিই আমার মোবাইলের মেমোরি অদল-বদল করেছেন। সেখানে আমার ব্যক্তিগত-পারিবারিক ছবিও ছিল। সেজন্য আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আলী রেজওয়ান তালুকদার বলেন, ওই শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে নানাভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ের অনৈতিক সুবিধা চেয়েছে। তাকে স্বাভাবিক মনে হয়নি আমার। আমি তার এসব ব্যাপারে কখনও সাড়া দেইনি, প্রশ্রয় দেইনি। এখন আমার নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ছড়াচ্ছে ওই ছাত্রী। আমি এতে অত্যন্ত বিব্রত।

ইএমএ প্রোগ্রাম পরিচালক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ওই ছাত্রী আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সেদিন পরীক্ষার হলে আমিও পরিদর্শক হিসেবে ছিলাম। পরীক্ষার হল থেকে তার মোবাইলের এমনটা হওয়ার কথা না। তবে আমরা শিক্ষকরা এই বিষয়টি নিয়ে বসে করণীয় ঠিক করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু তাহের বলেন, আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। উপাচার্য এটি ফাইলে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করব। তদন্ত কমিটি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবে। কোনো শিক্ষকের যদি এমন নৈতিক স্খলন ঘটে তবে অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]