গৌরব ও সাফল্যের ৩০তম বসন্তে শাবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১০:১০ এএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আজ পহেলা ফাল্গুন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) দিবস। ১৯৯১ সালের বসন্তের এই দিনে শিক্ষা-কার্যক্রম শুরু করে দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর একে একে কেটে গেছে ২৯টি বসন্ত। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন আর সাফল্যে প্রতিষ্ঠানটির গৌরব দেশের গণ্ডি পেরিয়েছে অনেক আগেই। ইতোমধ্যে গৌরব ও সাফল্যের ২৯ বছর পেরিয়ে ৩০ বছরে পদার্পণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

২৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা, বর্ণাঢ্য র্যালিসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠ সিলেট শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে আখালিয়া এলাকায় ৩২০ একর জমির ওপর অবস্থিত। ১৯৯১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনটি বিভাগ, ১৫ জন শিক্ষক ও ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে আলোর এই ঘর। সময়ের ব্যবধানে ছোট্ট সেই ঘরে এখন স্থান পেয়েছে ২৮টি বিভাগ এবং ২টি ইনস্টিটিউশনের অধীনে প্রায় সাড়ে ছয়শত শিক্ষক এবং ১২ হাজার শিক্ষার্থী।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য। বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুন নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আলো ছড়াচ্ছে বিশ্বে।

ক্যাম্পাসে প্রবেশকালে ‘এককিলো রোড’, অসংখ্যা ছোট-বড় টিলা, পাহাড়ের পাদদেশে স্থাপিত আবাসিক হলগুলো, টিলার ওপর নির্মিত শত সোপান বিশিষ্ট শহীদ মিনার, জাতির পিতার প্রতিকৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘চেতনা-৭১’ প্রভৃতি স্থান ও স্থাপনা সবার নজর কাড়বে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত অনেক প্রযুক্তি দেশে প্রথম ও অনন্য স্থান দখল করে রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রথম সেমিস্টার পদ্ধতি চালু, মোবাইল ফোনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু, পুরো ক্যাম্পাস ওয়াইফাই সেবার আওতায় নিয়ে আসা, পুরো ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, নিজস্ব ডোমেইনে ই-মেইল চালু, প্রথম বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’ উদ্ভাবন, যানবাহন ট্র্যাকিং ডিভাইস উদ্ভাবন, চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) উদ্ভাবন, বাংলায় কথা বলা সামাজিক রোবট ‘রিবো’ তৈরি, হাঁটতে চলতে সক্ষম রোবট ‘লি’ তৈরি, অনলাইনে টান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের সুবিধা চালু, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার কিবোর্ড তৈরি , রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবনসহ অসংখ্য উদ্ভাবন রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসা আয়োজিত স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ৭৯টি দেশের বাছাইকৃত ২৭২৯টি দলের সঙ্গে লড়াই করে শীর্ষ চারে জায়গা করে নেয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘টিম অলিক’।

সর্বশেষ দেশের প্রযুক্তি খাতে অবদানের জন্য ঢাবি-বুয়েটকে পেছনে ফেলে দেশসেরা ডিজিটাল ক্যাম্পাস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, নানাবিধ সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত সুনাম ও সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা ও গবেষণায় এই বিশ্ববিদ্যালয় একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। চলমান উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে। পাশাপাশি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সমস্যা দূরীভূত হবে। এজন্য সকলের সার্বিক সহযোগিতা কাম্য।

মোয়াজ্জেম/আরএআর/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]