ফ্যানের সুইচ বন্ধ করতে বলায় শিক্ষার্থীকে মারধর ছাত্রলীগ নেতার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৮:৪৪ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মারধরের শিকার ছাত্রের বান্ধবীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বান্ধবীর বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা হলেন আদনান সাকিব ও ঐশ্বর্য বিনতে নেওয়াজ। তারা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৮তম ব্যাচের (১ম বর্ষ) শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শামীম শিকদার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪০তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক ছাত্র। তিনি জাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় আদনান সাকিব ও তার বান্ধবী ঐশ্বর্য বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ক্যাফেটেরিয়ার বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ডের কাছে বসে শামীম শিকদার তার এক বান্ধবীর সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন।

একপর্যায়ে দূর থেকে ইশারা করে শামীমকে ফ্যানের সুইচ বন্ধ করতে বলেন আদনান। এ সময় আদনানকে সুইচ বন্ধ করতে বলেন শামীম। আদনান সুইচ বন্ধ করতে গেলে শামীম তার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেয়ার পর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আদনানকে চড়-থাপ্পড় দেন শামীম।

অভিযোগকারী আদনান সাকিব বলেন, আমি পরিচয় দেয়ার পরপরই তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে আমাকে মারধর শুরু করেন। তখন আমার বান্ধবী আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও লাঞ্ছিত করেন শামীমের সঙ্গে থাকা বান্ধবী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম শিকদার বলেন, দূর থেকে ইশারা করার কারণে আমি ঠিক বুঝতে পারিনি আদনান আসলে কি বলতে চেয়েছে। কিছুক্ষণ পর ওই ছেলে নিজে এসে ফ্যানের সুইচ বন্ধ করে এবং আমার কাছে জানতে চায় আমি কেন সুইচ বন্ধ করিনি। এ সময় সে আমার গায়েও হাত দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের কাজ করছি। শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

ফারুক হোসেন/এএম/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com