জবি বাঁধনের কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ, অফিসে তালা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৫:৫৮ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ইউনিটের সকল কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনটির অফিসে তালাও লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হুসাইন মোহাম্মদ সিদ্দিকিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

ফের নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জবির এ ইউনিট কোনো প্রকার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত বাঁধন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে বাঁধন ইউনিটের সকল আর্থিক ও দাফতরিক হিসাব কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেয়া হলো।

জানা যায়, উপদেষ্টাদের হস্তক্ষেপে জবির বাঁধন ইউনিটের ২০২০ কমিটি গঠনের পক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়। বিশেষত ছাত্র উপদেষ্টা মকবুল হাসান সোহান, আমিনুল হক রবিন ও আক্তারুজ্জামান আতিকের বিরুদ্ধে সরাসরি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ২০২০ কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি, দক্ষ কর্মীদের মূল্যায়ন না করা ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরে কর্মীদের পক্ষ থেকে সভাপতি, প্রধান শিক্ষক উপদেষ্টা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয় এবং এ বিষয়ে সেন্ট্রাল ও জোনকেও জানানো হয়। জবি বাঁধন ইউনিটের সমস্যা সমাধানে সেন্ট্রালের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

কিন্তু সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয় কমিটি। গত সোমবার বাঁধন কর্মীদের উভয় পক্ষের সঙ্গে শিক্ষক উপদেষ্টা বসেও কোনো সমাধান করতে পারেননি। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ২০১৯ কমিটির সভাপতি নিয়াজ শরীফ টুটুলের সভাপতিত্বে ২০২০ কমিটি অবৈধ ঘোষণা করা হয় এবং সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ২০১৯ কমিটি বাঁধনের এ ইউনিট পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বাঁধন ইউনিটের অফিসে তালা দেয় ২০১৯ কমিটির কার্যনির্বাহী ও সাধারণ কর্মীরা।

২০১৯ কমিটির সভাপতি নিয়াজ শরীফ বলেন, 'সাবজেক্ট কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠিত কমিটিতে দক্ষ কর্মীদের মূল্যায়ন না করা এবং কমিটি গঠনে অনিয়ম করায় ২০১৯ কমিটির কার্যকরী পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সম্মতিক্রমে কার্যকরী পরিষদ ২০২০ রহিত করা হলো। পরবর্তী কার্যকরী পরিষদ গঠন না করা পর্যন্ত ২০১৯ কমিটি অফিস পরিচালনা করবে। অফিসের নিরাপত্তার জন্য আগে ব্যবহৃত দুটি পুরাতন তালা পরিবর্তন করে নতুন তালা লাগানো হয়েছে।'

এফআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]