দুই শিক্ষককে বরখাস্তের প্রতিবাদ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরামের

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৭ এএম, ২৯ মার্চ ২০২০

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বক্তব্য ও ছবি পোস্ট করায় দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে ‘অনভিপ্রেত’ ও ‘উসকানিমূলক’ পোস্ট করায় তাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ প্রকাশ করা হয়।

দুই শিক্ষক হলেন, ময়মনসিংহের গফরগাঁও সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাকিয়া ফেরদৌসী এবং বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক সাহাদাত উল্লাহ কায়সার।

একই সঙ্গে তাদের শোকজ করে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এই বহিষ্কারের প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম একটি বিবৃতি দিয়েছে। যেখানে ৮১৭ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করেছেন। গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় প্রশাসনিক গাফিলতির বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করায় ময়মনসিংহের গফরগাঁও সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাকিয়া ফেরদৌসী এবং বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক সাহাদাত উল্লাহ কায়সারকে সাময়িক বরখাস্ত করা ও শোকজ করা হয়েছে। ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই শিক্ষকগণ সরকার বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বা ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি, বরং প্রশাসনের একটি অংশ যারা নিজ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে যৌক্তিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গত বেশ কিছুদিন ধরে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রস্তুতির ভয়াবহ ঘাটতির যে হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে তাতে সমগ্র দেশবাসীও এই শিক্ষকগণের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন না। জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করা সকল ডাক্তার যেখানে অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী পাননি, সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের পিপিই গায়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি প্রদানের কারণে শুধু ওই শিক্ষকগণই নয় সমগ্র সচেতন নাগরিক সংক্ষুব্ধ হয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, একইদিনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের বিরুদ্ধে শালীনতার সীমা অতিক্রম করে নজিরবিহীনভাবে হুমকি প্রদর্শন করা হয় যা পরবর্তীতে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের দাবির মুখে প্রত্যাহার করা হয়।

আমরা মনে করি স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর এই নগ্ন হস্তক্ষেপ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূল ভিত্তির উপর হামলার শামিল। সারাদেশ যখন কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত, সরকার সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত, ঠিক তখন সরকারি আমলাদের ব্যর্থতা ঢাকতে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে এই দেশপ্রেমী শিক্ষকগণকে।

প্রকৃতপক্ষে কারণ দর্শানো উচিত সেসকল দায়িত্বপ্রাপ্ত আমলাগণকে যারা সময় পেয়েও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেননি। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হওয়ার আগে আমরা প্রায় ৩ মাস সময় পেয়েছিলাম। কিন্তু এই সময়ে ডাক্তারদের জন্য পর্যাপ্ত সার্জিকাল মাস্ক ও প্রটেকশন গিয়ার পর্যন্ত যোগাড় করা হয়নি। এমনকি বিদেশ ফেরতদের জন্য কোয়ারান্টিনের সুব্যবস্থাও করা হয়নি।

আমরা অতিস্বত্তর এই প্রতিহিংসামূলক কারণ দর্শানো নোটিশ ও সাময়িক বরখাস্তের আদেশের প্রত্যাহার দাবি করছি। পাশাপাশি যারা দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অবিবেচকের মতো আচরণ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে নিয়মমাফিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এসএইচএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]