ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে প্রক্টর-ছাত্রের দ্বন্দ্ব চরমে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইবি
প্রকাশিত: ০৬:২৪ পিএম, ০৯ মে ২০২০

অনলাইনে ক্লাস নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মনের স্ট্যাটাসে এক শিক্ষার্থীর কমেন্টস ঘিরে সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রক্টর।এ ঘটনায় প্রক্টর বারবার ফোন দিয়ে হুমকি-ধামকিসহ নানাভাবে অপমান করায় তার বিচার দাবি করেছেন ওই শিক্ষার্থী।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ টাইমলাইনে উল্লেখিত ঘটনা শেয়ারপূর্বক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তার অপমান ও হুমকির বিচার দাবি করেন শিক্ষার্থী মো. মহিবুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

নিচে ওই শিক্ষার্থীর টাইমলাইনে উল্লেখিত পোস্টটি তুলে ধরা হলো :
বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাস চালু করেছেন উপাচার্য স্যার। সেই প্রেক্ষাপটে প্রক্টর স্যার অনলাইন ক্লাস নিয়ে একটি পোস্ট করেন। সেখানে আমি কমেন্ট করি, স্যার, আপনি অনেক সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নবিত্ত পরিবারের সংখ্যা অনেক বেশি। আপনি দেখেছেন অনেক ছাত্র-ছাত্রী তাদের পারিবারিক অস্বচ্ছতার জন্য সাহায্য চেয়েছেন। এমন অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছে যারা মুখ ফুটে বলতে পারে না এবং অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী গ্রামে থাকে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে সকলের অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত হওয়া সম্ভব নয়, তাই এটি তাদের জন্য বিলাসিতা। স্যার অনলাইন ক্লাস বন্ধে আপনি যদি সহায়তা করতেন। এর জবাবে প্রক্টর লিখেছেন আপনাকে আলাদা ক্লাস নিয়ে বুঝাতে হবে। এরপর সাথে সাথে ম্যাসেঞ্জারে স্যারের কল-

তুমি আমার লেখায় কি বুঝছো?
*সরি স্যার,
না বুঝে কমেন্ট করছো কেন?
*সরি স্যার
সারাদিন ত্রাণ ত্রাণ করো, বেয়াদব, ত্রাণ ছাড়া কিছু বুঝোস না তুই?
*সরি স্যার ভুল হয়েছে আমি এখনি কমেন্ট ডিলিট করছি।
স্যার : ফোন রাখ।
এরপর আমি কমেন্টটি ডিলিট করি এবং স্যারের ব্যবহারের জন্য দুইটি মাইডে দেয়। মাইডে দুটি ছিল-
মাই ডে-১
বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত চেতনা ও গণতন্ত্রের চর্চা কেন্দ্র, মতামতের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক অধিকার, প্রক্টর মহোদয় আপনার পদমর্যাদা অনুযায়ী কল দিয়ে একমত পোষণ করানো, জানি না আপনার পদমর্যাদা অনুযায়ী কতটা কাম্য।
মাই ডে-২
প্রক্টর স্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে একটা ছাত্রকে তুই এবং বেয়াদব বলে সম্বোধন করা জানি না কতটা মার্জিত।
আমার নম্বরে প্রক্টরের কল, মাইডে কেন দিছো?
আমি- স্যার আপনি প্রক্টর মহোদয়। আপনি হঠাৎ আমাকে বেয়াদব ও তুই করে ডাকবেন আমি ঠিক বুঝতে পারি নাই, তাই মাইডে দিয়েছি।
প্রক্টর : তো এতে মাই ডে দেয়ার কি আছে? মাই ডে দিয়ে কি আমার সম্মান রাখছেন?
আমি : স্যার গণতান্ত্রিক চর্চা কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, মতামতের বিরোধিতা হতেই পারে। আপনি সম্মানিত স্যার হয়ে এভাবে বললেন তাই..।
প্রক্টর : আরে ভাই আমি আপনাদের মতো গণতন্ত্র বুঝি না।

আমি-ওকে স্যার মাই ডে ডিলিট করছি। এসময় পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে উনি আমাকে শাসালেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিবুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আমি তার পোস্টে মতামত ব্যক্ত করেছি। কিন্তু এটা নিয়ে তিনি আমাকে তুইতুকারী করে হুমকি দেবেন এটা আমি কখনও ভাবিনি। একজন শিক্ষক হয়ে ছাত্রের প্রতি এমন আচরণ আমাকে ভাবাচ্ছে। আমি এ অপমান ও হুমকির বিচার চাই।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, আমি তাকে কখনও 'তুই' বলে সম্বোধন করিনি। আমি তাকে বুঝিয়েছি আমার স্ট্যাটাসের সাথে তোমার এমন কমেন্ট যায় না। কিন্তু সে একটি ছোট বিষয়কে অনেক বড় করতে চাচ্ছে।

রায়হান মাহবুব/এমএএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - jagofeature@gmail.com