ঢাবির গাছ কেটে ফেলার প্রতিবাদে ছাত্র ইউনিয়নের মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ১৮ মে ২০২০

লকডাউনে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে মেট্রোরেলের স্টেশন করার জন্য নির্বিচারে গাছ কেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ঢাবি ছাত্র ইউনিয়ন। সোমবার (১৮ মে) সকালে বাংলা একাডেমির সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে গাছ কাটার প্রতিবাদ করে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম বলেন, আমরা যখন বলি, বিশ্ববিদ্যালয় গাবতলী নয়, যে এখানে বাস ট্রাক থাকবে, বিশ্ববিদ্যালয় পল্টন নয়, যে এখানে যুবলীগের জন্মদিন করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো মাছের বাজার নয়, যে বাজার উচ্ছেদ করে মেট্রো রেলের পিলার বসাতে হবে, তখন আমাদেরকে জায়গা সংকট দেখানো হয়। বলা হয়, ঢাকা শহরে স্পেস নেই কোনো।

তিনি বলেন, সরকার চাইলেই পারত মেট্রো রেলের রাস্তা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নিতে। কিন্তু তারা তা করে নাই। কারণ আমাদের স্বার্থ তারা দেখে না। সাধারণ মানুষের ক্ষতি হলে তাদের কীই-বা আসে যায়। এই যে মেট্রোরেল, এই মেট্রোরেল শেরাটন হোটেলের ওপর দিয়ে যেতে পারে নাই। কারণ ওইখানে যায় বড়লোকেরা। মেট্রোরেল যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গলার উপর দিয়ে, কারণ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চিন্তা করে গরিবেরা। এই মেট্রোরেলের রাস্তা থেকে দুইশ মিটার দূরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র। সেইখানে এখন করোনা রোগের টেস্টিং চলছে। ভাবুন! উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্রের মাত্র দুইশো মিটার দূরে ধুলা বালু মাখা এক কন্সট্রাকশন।

তিনি আরও বলেন, এই সরকারের ক্ষমতার অভাব নেই, অভাব সদিচ্ছার। এই সরকার চায় বিশ্ববিদ্যালয়কে জাহান্নাম বানিয়ে তুলতে, জাহান্নাম বানানোর জন্যই সে নিরীহ ফার্স্ট ইয়ারের একটা ছেলেকে চার বছরে পরিণত করে ছাত্রলীগের পোষা সন্ত্রাসীতে। জাহান্নাম বানানোর জন্যই একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে ছুরির মতো মেট্রোরেল চলে যায়।

DU-2

মানববন্ধনে ঢাবি সংসদের সহ-সভাপতি জয় রায় বলেন, ‘আপনারা জানেন, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের এই করোনা চলাকালীন সময়েও হাজার হাজার টাকা ফি দিতে হবে, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সেই ভাই-বোনেরা আজ আন্দোলন করছে। ওই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির মালিক যেই বিজনেসম্যানরা, আমাদের সরকার চালায় যেই বড় বড় কোটিপতিরা, তারা এই আন্দোলনকে পাত্তা দিচ্ছে না কেনো জানেন? কারণ, ওই সেমিস্টার ফি তাদের এক ঘণ্টার উপার্জনের সমান। তাদের কাছে আমরা হাতের ময়লা হয়ে গেছি, চাইলেই যেন তারা ঝেড়ে ফেলে দিতে পারে। তারা নিজেরা লকডাউন পালন করছে এসি লাগানো প্রাসাদে বসে। গণভবন, বঙ্গভবন, নাট্যভবনে বসে, আর আমরা অপেক্ষা করছি যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর। গার্মেন্টস শ্রমিকদের শত কিলোমিটার হাঁটিয়ে আনা হয়েছে। করোনার টেস্ট করাতে এসে এই শাহবাগে, পিজি হাসপাতালের সামনে অসহায় রোগীরা রাস্তায় পড়ে আছে, কাঁদছে, সেখানেই শুয়ে থাকছে পেপার বিছিয়ে। কেউ কেউ মারাও যাচ্ছে। মারা যাচ্ছে বাংলাদেশ।’

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি সাখাওয়াত ফাহাদ তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ‘যেই সরকার এইরকম এক মহামারির মাঝেও মানবাধিকার কর্মী দিদার ভূঁইয়াকে, লেখক আহমেদ মোশতাককে গ্রেফতার করতে পারে, সে চাইলেই পারে মেট্রোরেলের স্টেশন বিশ্ববিদ্যালয়ে না করতে। সে চাইলেই পারে দেশের সব জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে। আমরা আজ থেকে পাঁচ বছর আগেও বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকের ওপর রেললাইন বানাবেন না। আমাদেরকে বলা হয়েছে, এটা নাকি আমাদের ভালোর জন্যই। কোথায় সেই ভালো? তখন তারা বললো, মেট্রোরেলটা হতে দাও, স্টেশন আমরা করব না। আর আজ আমরা দেখি, টিএসসিতে স্টেশন করার জন্য এই করোনার মাঝেই কী ব্যস্ততা! যাতে স্টুডেন্টরা ফিরে আসার আগেই সর্বনাশটা করে ফেলা যায়।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার আমাদের ভালো চায় না। এই সরকার আমাদের না। আমাদের লড়াই, তাই এই সরকারের বিরুদ্ধে। অনেক জুলুম সইতে হবে, জেল হবে, ফাঁসি হবে, সরকারের তরফ থেকে অনেক নাটক সাজানো হবে। কিন্তু আমরা কোনো কিছুতেই থেমে যাব না। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়কে, এই দেশকে, এই দেশের মানুষকে আমরা ভালোবেসেছি। এই পৃথিবীটাকে, আর স্টেশন বানানোর উদ্দেশে কেটে ফেলা ওই গাছগুলোকে আমরা, ভালোবেসেছি।’

এমএফ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]