মেসে একের পর এক চুরি, উদ্বিগ্ন রাবি শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাবি
প্রকাশিত: ০৪:২১ এএম, ১৯ জুলাই ২০২০

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ১৮ মার্চ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তড়িঘড়ি করেই হল ও মেস ত্যাগ করেন শিক্ষার্থীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ১৫ দিন বন্ধের কথা থাকলেও সেটি গড়িয়েছে অনির্দিষ্টকালে। ফলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে পারেননি কেউই। দীর্ঘ দিনের এই বন্ধের সুযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার মেসগুলোতে বেড়েছে চোরের উপদ্রব। এতে উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের।

গত দুই মাসে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর ও স্টেশন বাজারের দোকানসহ কয়েকটি মেসে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজার এলাকার এক মেসের ৮টি তালা ভেঙে সমস্ত মালামাল চুরি হয়েছে। এমনকি চোরদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটও।

ওই মেসের ভুক্তভোগীদের মধ্যে সমাজকর্ম বিভাগে শিক্ষার্থী সুজন আলী জানান, হঠাৎ করে ছুটির ঘোষণার কারণে বাসায় পড়ার জন্য কয়েকটা শিট ছাড়া আর কিছুই নিয়ে আসতে পারেননি। গত ১৫ জুলাই ফোনে কোন এক অপরিচিত লোক কল করেন। পরে তিনি জানান সারদার কোনো এক পরিত্যক্ত জায়গায় আমার সার্টিফিকেট ও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখি যে ওইগুলো সব আমারই কাগজপত্র। এরপর আমি তাৎক্ষণিক মেস মালিককে ফোন দিয়ে বিষয়টি অবহিত করি। ঘটনার একদিন পরে মেসের একজন গিয়ে দেখে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। ফ্যান, টিভি, বাল্ব, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বই-খাতা, পোশাক, লেপ-তোষক এমনকি টিউবওয়েলের মাথাটাও চোরের হাত থেকে রেহাই পায়নি!

বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচন্ডির মহসীন মেসে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল হক তুহিন। তিনি জানান, হঠাৎ করে ছুটি ঘোষণার কারণে আমার সব কাগজপত্র ট্রাংকে সাবধানে রেখে গিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকদিন পরই মেসে চুরির ঘটনার শিকার হই। আমার ট্রাংকসহ লাগেজ, লেপ-তোষক, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র চুরি হয়েছে। সার্টিফিকেটগুলোও রাজশাহীর আরেকটি উপজেলা সারদায় গিয়ে পাই। আমরা ১৬ জন একই মেসে থাকি। আমার রুমমেটের সার্টিফিকেট এখনও পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে এমন একের পর এক চুরি সত্যিই দুঃখজনক।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সুবিধা রয়েছে মাত্র ৮ হাজার শিক্ষার্থীর। বাকি ২৭ হাজার শিক্ষার্থী আবসিক হলের বাইরে মেসে কিংবা ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। যাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। মেস ভাড়া সংকটের মধ্যে এখন বেড়েছে চোরের উপদ্রব। এ কারণে আতঙ্কে দিন পার কারছেন রাবির অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) ও প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, স্টেশন বাজারের দিকের চুরির ঘটনা শুনে আমি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ফোন দেই। এবং সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস দেই। কিন্তু পরবর্তীতে ওই ছাত্র আমার সাথে আর যোগাযোগ করেনি। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সব ধরনের সহায়তায় রাবি প্রক্টরিয়াল বডি সর্বদা তৎপর।

জানতে চাইলে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুম মনির বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ব্যবস্থা নেব। মতিহার থানার ওসি এস এম মাসুদ পারভেজও একই বক্তব্য দেন।

সালমান শাকিল/এমএসএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]