ঢাবির বাজেট : গবেষণায় এক, বেতন-ভাতায় ৭০ ভাগ বরাদ্দ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ২৩ জুলাই ২০২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট গৃহীত হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশনের জন্য ৭০ ভাগ আর গবেষণা খাতে মাত্র এক ভাগ বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে এ বাজেটের অনুমোদন দেন সিনেট প্রতিনিধিরা। এর আগে ফিন্যান্স কমিটির সভা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সভা সিন্ডিকেটে বাজেট অনুমোদন পায়।

অধিবেশনের শুরুতে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনেটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তারপর কোষাধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বাজেট উপস্থাপন করেন।

সিনেট অধিবেশনে চলতি অর্থবছরের জন্য ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বাজেট পান হয়। আর বাজেটে আয় হিসেবে ধরা হয়েছে ৮১৯ কোটি ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৮৬ দশমিক ০৩ শতাংশ আসবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন(ইউজিসি) থেকে আর ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে।

৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বাজেটে ৬৯.৯০ ভাগ ব্যয় হবে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশনবাবদ। অন্যদিকে বরাবরের মতোই উপেক্ষিত গবেষণা খাতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে মোট বাজেটের ১.০৯ শতাংশ। যদিও সিনেট অধিবেশেন বেশ কয়েকজন সদস্যই গবেষণাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ব্যাপারে পরামর্শ দেন।

পাস হওয়া বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ ব্যয় হবে ২৬৭ কোটি টাকা। যেটি মূল বাজেটের ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ। এর মধ্যে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতনই ২৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া ভাতাদিবাবদ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২১৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ২৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। এ খাতে দায়িত্বভার ভাতা ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যাতায়াত ভাতা ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, শিক্ষাসহায়ক ভাতা ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা, বাড়িভাড়া বাবদ ১০৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ১২ কোটি টাকা, মোবাইল ফোন ভাতা ৮৫ লাখ টাকা, আবাসিক টেলিফোন নগদায়ন ৩ কোটি টাকা, টিফিন ভাতা ৭৮ লাখ টাকা, ধোলাই ভাতা ৩২ লাখ টাকা, উৎসব ভাতা ৪৫ কোটি টাকা, অতিরিক্ত কাজের ভাতা ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, বিনোদন ভাতা ৯ কোটি টাকা, বাংলা নববর্ষ ভাতা ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বিশেষ ভাতা ১৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এদিকে বাজেটের ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ ব্যয় হবে পেনশন ও অবসর সুবিধা হিসেবে, যা টাকার অঙ্কে ১২৫ কোটি টাকা। আর সরবরাহ ও সেবা বাবদ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৮ কোটি ৪ লাখ টাকা, যা মূল বাজেটের ২২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অন্যান্য অনুদান হিসেবে ব্যয় হবে ২৩ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর মূলধন অনুদানের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩০ কোটি ৬১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

অধিবেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ গত অর্থবছরের ( ২০১৯-২০) সংশোধিত বাজেটও পেশ করেন। যেখানে গত অর্থবছরে ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৮৪৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। অধিবেশনে এই বাজেটও গৃহীত হয়।

জেডএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]