রাবি উপাচার্যসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সাবেক উপাচার্যের স্ত্রীর মামলা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৬:৪৩ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বারবার আবেদনের পরও পাওনা বেতন-ভাতা পরিশোধ না করায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলাটি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা শেখ রাসেল মডেল স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ মোমেনা জীনাত। তিনি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজান উদ্দিনের স্ত্রী।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন রেজিস্ট্রার, কোষাধ্যক্ষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল মডেল স্কুলের সভাপতি ও অধ্যক্ষ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩০ জুন শেখ রাসেল মডেল স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রাক-অবসর অবকাশে যান বাদী মোমেনা জীনাত। প্রাক-অবসর অবকাশে যাওয়ার আগে গত বছরের ৩০ মে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের মাধ্যমে বকেয়া বেতন, প্রাক-অবসর অবকাশকালীন এক বছরের বকেয়া বেতন, দুটি বোনাস, বৈশাখী ভাতা, অর্জিত ছুটির বিপরীতে প্রাপ্য অর্থ, পূর্ণ অবসর ভাতা এবং পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ প্রাপ্য অর্থাদি প্রদানে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন জানান তিনি।

ফের গত বছরের ১১ জুলাই এবং ২২ সেপ্টেম্বর দুবার উপাচার্যের কাছে পাওনা অর্থ প্রদানে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানান। আবেদনের জবাব না পেয়ে ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিউটের পরিচালক এবং শেখ রাসেল মডেল স্কুলের অধ্যক্ষ বরাবর আইনি নোটিশ পাঠান তিনি। ৩০ দিনের মধ্যে পাওনাদি পরিশোধের জন্য বলা হয়।

নোটিশ প্রাপ্তির পরও নোটিশের জবাব এবং পাওনা অর্থ পরিশোধ না করায় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় আচার্য রাষ্ট্রপতি বরাবর আপিল দায়েরের উদ্দেশ্যে মেমো অব আপিল কপি প্রেরণ করেন। রাষ্ট্রপতি মেমো অব আপিল প্রাপ্ত হওয়ার ৩০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও পাওনা অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় মামলা করেন মোমেনা জীনাত। মামলায় তিনি বিবাদীর বিরুদ্ধে পাওনা অর্থ, যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং মামলার যাবতীয় খরচ বহনের ডিক্রির আবেদন জানিয়েছেন।

মামলার বাদী মোমেনা জীনাত বলেন, প্রাপ্য অর্থ পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সব ধরনের নোটিশ আমি দিয়েছি। অন্য কোনো প্রতিকারের সুযোগ না থাকায় মামলা করতে হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী নূরে কামরুজ্জামান ইরান বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এ মামলাটি করা হয়েছে। আদালতের বিচারক জয়ন্তী রানী মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১৯ অক্টোবর আসামিদের আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এম এ বারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি লিগ্যাল সেলে যোগাযোগ করতে বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় লিগ্যাল সেলের প্রশাসক অধ্যাপক ড. শাহীন জোহরা জানান, তিনি মামলা সম্পর্কে কিছু জানেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান বলেন, বিচারাধীন বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দেয়া যাবে না।

সালমান শাকিল/আরএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]