রাবির অবকাঠামো উন্নয়নে খরচ বাড়ল ১৪৭ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩১ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হয়েছে। সংশোধনীতে খরচ বাড়ানো হয়েছে। এ প্রকল্পে বাড়তি ১৪৭ কোটি ১২ লাখ টাকা অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৩৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসিতে একনেক সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানা হয়।

এ সময় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) আবুল কালাম আজাদ জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোতে কিছু কিছু পরিবর্তন তারা আনবে। তার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির জননেত্রী শেখ হাসিনা হল নির্মাণে বেশি লাগছে ১৫ কোটি টাকা। শহীদ এইচ এম কামরুজ্জামান হল নির্মাণে বেশি লাগছে সাড়ে ৭ কোটি টাকা। বিজ্ঞান ভবন ১০ তলা ছিল, এখন ২০ তলা করা হচ্ছে। এতে ৫৪ কোটি টাকা বেশি লাগছে। কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন মেরামত ও সংস্কারের জন্যেও বাড়তি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই খাতগুলোয় টাকা বেশি লাগছে। এগুলো আজকের একনেকে অনুমোদিত হয়েছে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির নানা বিষয় নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘খুব সম্ভব পাকিস্তান আমলে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় রাজশাহীতে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উত্তর বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য। আমার অবাক লেগেছে, প্রায় ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। আরও সুন্দর খবর পেলাম আজকে যে, তাদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই নারী। এটা একটা ভালো সংবাদ। এই প্রকল্প পাসের ফলে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তারা আশা করছেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীর সংখ্যা ৪০ শতাংশ হয়ে যাবে অচিরেই, প্রকল্পটি শেষ হতে হতে। আমার ধারণা, দেখতে দেখতে ৫০ শতাংশ পেরিয়ে যাবে।’

প্রকল্প সূত্র বলছে, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়/মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে উদ্যোগী মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা বলছে, প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ ও পূর্ত সংশ্লিষ্ট মোট ১৩টি অঙ্গের মধ্যে ৪টি অঙ্গের কাজের জন্য ২০১৭ সালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি এই নির্মাণ কাজের ড্রয়িং, ডিজাইন ও ব্যয় প্রাক্কলন পুনর্নির্ধারণের পরিপ্রেক্ষিতে মূল অনুমোদিত ব্যয় অপেক্ষা কিছু অঙ্গের ব্যয় বৃদ্ধি করে। আর মূল ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রাক্কলন পিডব্লিউডি রেট সিডিউল, ২০১৪ অনুযায়ী করা হয়। বর্তমানে রেট সিডিউল, ২০১৮ কার্যকর হওয়াতে প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় বেড়েছে।

জননেত্রী শেখ হাসিনা হল নির্মাণ (১০ তলা ভিতবিশিষ্ট ১০ তলা), শহীদ এইচ এম কামরুজ্জামান হল নির্মাণ (১০ তলা ভিতবিশিষ্ট ১০ তলা), বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা হল নির্মাণ (ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, চারতলা থেকে ছয়তলা), শিক্ষক কোয়ার্টার ভবন নির্মাণ (১০ তলা ভিতবিশিষ্ট ১০ তলা), বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ (২০ তলা ভিতবিশিষ্ট ২০ তলা), শেখ রাসেল মডেল স্কুল ভবন নির্মাণ (৪ তলা ভিতবিশিষ্ট ৪ তলা), কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন মেরামত ও সংস্কার, চতুর্থ বিজ্ঞান ভবন, কলা ভবন ও কৃষি অনুষদ ভবন নির্মাণ, চারুকলা ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, সবুজ সীমানা প্রাচীর, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, আসবাবপত্র ক্রয় ইত্যাদি এই প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম।

পিডি/এমএসএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]